হরমুজ প্রণালীতে তেল ও জ্বালানি সরবরাহ স্থগিত করেছে বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানিগুলো। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তাপে প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা। বিশ্ববাজারে বড় সংকটের পূর্বাভাস।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি আঘাত হানতে শুরু করেছে। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল ও বাণিজ্য কোম্পানিগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্থগিত করেছে।
এই জলপথটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হওয়ায়, এই সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। একটি প্রধান বাণিজ্য কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী রয়টার্সকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আমাদের জাহাজগুলো বেশ কয়েক দিন আটকে থাকবে।"
এই স্থগিতাদেশের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকস্মিক বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেহেতু উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, তাই জাহাজ কোম্পানিগুলো তাদের নৌযানগুলোকে আপাতত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী কেন গুরুত্বপূর্ণ?
জ্বালানির ধমনী: বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে।
সরবরাহ শৃঙ্খল: এখানে যেকোনো বাধার অর্থ হলো এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে জ্বালানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হওয়া।
সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান: অঞ্চলটিতে নৌযান চলাচল বন্ধ হওয়া মানে বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়া।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং এই গুরুত্বপূর্ণ করিডোরটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে শিল্পোৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ—সবকিছুর ওপরই এর প্রভাব পড়বে।
আরো পড়ুন: ইসরাইলের পর ৫ আরব দেশের যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
সুত্র: আলজাজিরা
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...