সীতাকুণ্ডে শ্বাসনালী কাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই শিশুটি চমেক হাসপাতালে মারা গেছে। শিশুটি নিজের বাসা থেকে বেরিয়ে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি দুর্গম পথে কীভাবে গেল-এটিই এখন বড় প্রশ্ন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শ্বাসনালী কাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আট বছর বয়সী সেই শিশুটি শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেছে। সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির চাচা মো. আব্দুল আজিজ বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় করা অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হচ্ছে।
কাটা শ্বাসনালী নিয়ে এক কিলোমিটার হেঁটে আসা
রোববার (১ মার্চ) সকালে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কের ভেতরে সহস্রধারা ঝরনা এলাকা থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার উত্তরে, ভূমি থেকে ১০০০ ফুট উঁচু এক দুর্গম পাহাড়ে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, চন্দ্রনাথ মন্দিরে ওঠার রাস্তার সংস্কার কাজ করার সময় তারা দেখেন একটি শিশু গলা দিয়ে রক্ত ঝরা অবস্থায় পাহাড় থেকে নেমে আসছে। শিশুটি তাদের কাছে এসে কিছু বলার চেষ্টা করলেও শ্বাসনালী কাটা থাকায় কোনো শব্দ বের হচ্ছিল না। শ্রমিকরা দ্রুত গলার ক্ষতস্থান কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে বালুর গাড়িতে করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
আরো পড়ুন: নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ ও হত্যা
খেলতে যাচ্ছি বলে বের হওয়া শিশুটি সেখানে গেল কীভাবে?
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরার মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা এই শিশুটি ওইদিন সকালে তার মাকে বলে যে সে ‘খেলতে যাচ্ছে’। সাধারণত সে তার দাদীর কাছে বা চাচাদের বাড়িতে খেলতে যেত। কিন্তু বাড়ি থেকে প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার দূরের দুর্গম পাহাড়ে তাকে কে বা কারা নিয়ে গেল—এটিই এখন সবচেয়ে বড় রহস্য।
শিশুটির চাচা আব্দুল আজিজ বলেন, "সেখানে বাচ্চাটাকে কে নিয়ে গেল এটাই এখন বড় প্রশ্ন। হয়তো নির্যাতন করে গলা কেটে তাকে মেরেই ফেলতে চেয়েছিল। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
তদন্তে পুলিশ: মামলা এখন হত্যা মামলা
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিশুটির মা আগে যে মামলাটি করেছিলেন, মৃত্যুর পর সেটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, "এত অল্প সময়ের মধ্যে শিশুটি কীভাবে অত দূরে গেল এবং কারা এর পেছনে দায়ী, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। আশা করছি খুব দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পারব।"
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...