নিউজ টাইম
৩ মে, ২০২৬ দুপুর ০১:০৫

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদ টিটন। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদ টিটন। ছবি: সংগৃহীত

নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য — শুটার হিসেবে ইমনের ক্যাডার আলিফের নাম উঠে এসেছে। আদালতপাড়ায় মামুন হত্যায়ও জড়িত এই আলিফ এখনও পলাতক।

নিউমার্কেটে শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, টিটনকে গুলি করেন সন্ত্রাসী ইমনের শীর্ষ ক্যাডার শুটার আলিফ — যিনি এর আগে আদালতপাড়ায় তারেক সাইফ মামুন হত্যাতেও সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ওই মামলায় অপর শুটার কুত্তা ফারুক গ্রেপ্তার হলেও আলিফ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।


ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম নিউজ টাইমকে বলেন, ঘটনার পর অনেককেই শনাক্তের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। আলিফসহ আরও কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে।


তিনি বলেন, ঘটনার পর ডিবির একাধিক টিম তদন্ত সমন্বয় করছে। এরই মধ্যে পাওয়া গেছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য। সেগুলো ক্রসচেক করা হচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক কারও ইন্ধন আছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টিটন হত্যাকাণ্ড ঘিরে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলছে না। কার ডাকে সেদিন ঘটনাস্থলে এসেছিলেন টিটন, তার সঙ্গে কারা ছিলেনÑ এসব প্রশ্নের উত্তরও খোঁজা হচ্ছে।


একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘটনার রাতে টিটনের সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন, যার মধ্যে টগর নামের এক সন্ত্রাসীর উপস্থিতির তথ্য মিলেছে। টগর ইমনের সহযোগী বলেও জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে কিছু প্রমাণ গোয়েন্দাদের হাতে থাকলেও তারা আপাতত সরাসরি নির্দেশদাতার চেয়ে শুটারকে গ্রেপ্তারেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, খুনিকে গ্রেপ্তার করা গেলে নির্দেশদাতার কাছেও পৌঁছানো সহজ হবে।


অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, এলিফ্যান্ট রোড ও নিউমার্কেট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইমনের একক আধিপত্য বজায় রয়েছে। চাঁদাবাজি, দোকান দখল ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, কেউ তার আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়লে সংঘর্ষ, হামলা এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। ফলে অন্য কোনো গ্রুপ সেখানে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না।


এদিকে শনিবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলনে টিটনের পরিবার পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বকে হত্যার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে তাদের এই দাবির পক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরাও হাটের শিডিউল সংক্রান্ত কোনো নথি উপস্থাপন করতে পারেননি।


উল্টো বসিলা পশুর হাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠানÑ রক্তাক্ত বিজয়, মেসার্স রনি এন্টারপ্রাইজ, আর ইসলাম মাচেন্ট্রি অ্যান্ড কোং ও মেসার্স তালুকদার এন্টারপ্রাইজ শিডিউল সংগ্রহ করেছে। তবে এদের কেউই এখনও শিডিউল জমা দেয়নি। ওই তালিকায় টিটন বা অভিযুক্ত পিচ্চি হেলালের নাম বা কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।


পরিবারের সদস্যরা বলছেন, টিটন খুনের পর পিচ্ছি হেলালের মিথ্যা ও বানোয়াট অডিও রেকর্ড বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মূল ঘটনা ধামাচাপা দিতে অডিও রেকর্ডে নানা ধরনের মিথ্যাচার করা হচ্ছে। ইমনের সঙ্গেও তাদের পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেনি। 


জানতে চাইলে ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল মোবাইলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি দোষারোপ করছি ইমন ও তার বউকে। এ ঘটনায় তারা জড়িত। তারা নির্দেশদাতা। কিন্তু টিটনের বড় ভাই মামলা করেছেন আমার বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলন করাচ্ছেন আমাদের বিরুদ্ধে। সাংবাদিকদের সঙ্গেও টিটনের বড় ভাই নিজে কথা বলছেন না। কখনও সরাসরি তার (ইমনের) লোকেরা কথা বলছেন। কখনো আইনজীবী দিয়ে কথা বলাচ্ছেন।’ 


হেলাল বলেন, ‘আন্ডারওয়ার্ল্ডে ইমনের প্রধান সেনাপতি ছিলেন হেজ্জাজ। ৫ আগস্টের পর একটি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও যান তিনি। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে এলেও অসুস্থ হয়ে মারা যান। তার জায়গায় ইমনের সেনাপতি হিসেবে উঠে আসেন হেজ্জাজের বন্ধু রিপন (নাম শিওর না)। তারিক সাইফ মামুনকে যে দুই শুটার গুলি করেন, তাদের একজন কুত্তা ফারুক, অপরজন আলিফ। কুত্তা ফারুক ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেও আলিফ এখনও অধরা। তিনি মাস্ক-ক্যাপ পরে টিটনকেও গুলি করেন। এখন ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে টিটনের বড় ভাইকে চাপ দিচ্ছেন ইমন ও তার বউ। চাপে বাধ্য হয়েই সংবাদ সম্মেলন করছেন টিটনের বড় ভাই রিপন। ইমন ও তার বউয়ের সঙ্গে টিটনের পরিবারের দ্বন্দ্ব চলছে। যে কারণে অন্য ভাইদের কেউ সামনে আসছেন না। কারণ ইমনের বউ লীনা নিহত টিটনের সৎবোন। পারিবারিক বিরোধের কারণে টিটনের আপন ছোট দুই ভাইকে ইমন মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করেছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় আমার সঙ্গে টিটন আলাপ করেছিলেন। টিটনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় ওই দুই ভাইকেও বিভিন্নভাবে হয়রানি করেছেন ইমন। ইমন এতটাই প্রতিশোধপরায়ণ যে, নিজের শ্যালকদেরও ছাড়েননি ইমন।’ 


উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার শাহ নেওয়াজ হলের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম আহমেদ টিটনকে। নিহত টিটন অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের স্ত্রী লীনার বড় ভাই। তালিকাভুক্ত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে অন্যতম টিটন দীর্ঘদিন জেল খেটে ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি যশোর ও ঢাকায় আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাঈদ আক্তার রিপন অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি হেলাসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকেই পিচ্চি হেলাল নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে গণমাধ্যমে নিজের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনার ৫ দিন পার হতে চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৭১

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...