আজ মহান মে দিবস। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীর পাশাপাশি দেশের শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা, মজুরি বৈষম্য ও অধিকার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পড়ুন বিস্তারিত পড়ুন।
আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের স্মারক হিসেবে দিবসটি বিশ্বব্যাপী সুমহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পৃথক বাণী দিয়েছেন। তারা বিশ্বের সব শ্রমজীবী মানুষকে সংগ্রামী অভিনন্দন জানিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মে দিবসের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বাস্তবতা
আজ থেকে ১৪০ বছর আগে আমেরিকার শিকাগো শহরে আট ঘণ্টা শ্রম ও ন্যায্য মজুরির দাবিতে যে শ্রমিক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, তার রেশ আজও শেষ হয়নি। প্রতিবছর ঘটা করে মে দিবস পালন করা হলেও দেশের শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের ইতিবাচক পরিবর্তন কতটা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সংস্থাটির কনভেনশনের শর্তসমূহ সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে না।
শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র
মজুরি বৈষম্য ও বকেয়া: অধিকাংশ শিল্পকারখানায় সরকার নির্ধারিত মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এমনকি মাসের পর মাস শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রাখা এবং বেতন চাইতে গিয়ে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
শিশুশ্রমের নির্মমতা: আইনে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ থাকলেও কলকারখানা, দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাখ লাখ শিশু কর্মরত রয়েছে।
ন্যায্যবিচার ও নিরাপত্তা: শ্রমিক ছাঁটাই, প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী হামলা বা পুলিশি হয়রানি নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে শ্রম আদালতে গিয়ে দরিদ্র শ্রমিকদের পক্ষে ন্যায়বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
কৃষিশ্রমিকদের নীরব বঞ্চনা
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও কৃষিশ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন বা সম্মিলিত কোনো প্রতিবাদ করার সুযোগ নেই। ফলে তারা যুগ যুগ ধরে উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছেন। অথচ জাতীয় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শিল্প ও কৃষি উভয় খাতের শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই মজুরি পরিশোধের কথা থাকলেও অনেক জায়গায় তা মানা হচ্ছে না।
প্রতিটি মে দিবসে মঞ্চ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পরদিন আর বাস্তবায়ন হতে দেখা যায় না। তাই এবার শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে দেশের শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হোক এবারের মে দিবসের মূল অঙ্গীকার।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...