রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্রে পদ্মা নদীর তীরবর্তী প্রায় ৩৪ কাঠা সরকারি খাসজমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩২ জন প্রভাবশালী আমলার বিরুদ্ধে। কীভাবে হলো শতকোটি টাকার সরকারি জমিতে বিলাসবহুল ভবন?
রাজশাহী নগরীর প্রাণকেন্দ্রে পদ্মা নদীর তীরবর্তী প্রায় ৩৪ কাঠা সরকারি খাসজমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৩২ জন প্রভাবশালী আমলার বিরুদ্ধে। ‘প্রত্যয় সমবায় সমিতি লি.’ নামের সংগঠনের ব্যানারে লিজ নেওয়া এই শতকোটি টাকা মূল্যের জমি এখন পরিণত হয়েছে বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পে। ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও, সরকারি সুবিধার সর্বোচ্চ শিখরে থাকা আমলারা সেখানে ফ্ল্যাট বাণিজ্য করছেন বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
আরো পড়ুন: ম২৪৭ কোটি টাকার প্রকল্পে ৭৪ কোটিই ‘বরাদ্দহীন’ ব্যয়
কীভাবে হাতবদল হলো খাসজমি?
লিজের নেপথ্যে: ২০১৮ সালে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে প্রায় ৩৪ কাঠা জমি ‘প্রত্যয় সমবায় সমিতি লি.’-কে লিজ দেওয়া হয়। এই সমিতির সদস্য ৩২ জন উচ্চপদস্থ আমলা, যাদের অনেকে অবসরে গেছেন, আবার অনেকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত।
ডেভেলপারের সাথে আঁতাত: আমলারা লিজ নেওয়ার পর জমিটি তুলে দেন আমানা গ্রুপের ‘আমানা হোমস লি.’-এর হাতে। ইতিমধ্যে সেখানে ১২ তলা ভবনের ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও একটি ভবনের পাইলিং শেষ হয়েছে। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম ভেঙে ফ্ল্যাটের শেয়ার বিক্রি করছে।
তথ্য গোপনের চেষ্টা: লিজ সংক্রান্ত প্রমাণপত্র ও শর্তাবলি জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করা হলেও দাপ্তরিক গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে কর্তৃপক্ষ তা সরবরাহ করেনি।
সমিতিটির নেতৃত্বে ছিলেন বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন সচিব ও সাবেক সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। বর্তমান পরিস্থিতিতে দায় এড়াতে অনেকেই মুখ খুলছেন না। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমিতির সদস্য ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়ার কথা ছিল। তবে কাজে দীর্ঘসূত্রতা এবং ব্যাংক লোনের জটিলতায় তারা এখন বিপাকে। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম তুহিন আলমও এই সমিতির সদস্য হিসেবে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
ভূমিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “এটি বড় ধরনের অনিয়ম। ‘কুখ্যাত’ খ্যাত আমলাদের এমন কর্মকাণ্ড পুনর্বিবেচনা করা হবে। পুনঃতদন্ত সাপেক্ষে এই লিজ বাতিলের চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বিষয়টিকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের শামিল বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, এই জমি পাওয়ার অধিকার একমাত্র ভূমিহীন ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের। আমলারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত মুনাফার জন্য সরকারি জমিকে ব্যবসায়িক পণ্যে রূপান্তর করেছেন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...