জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের আবাসন প্রকল্পে ২৪৭ কোটি টাকার মধ্যে ৭৪ কোটি টাকাই ব্যয় হয়েছে বরাদ্দহীন! ভূমি জট ও আইনি জটিলতায় ৮ বছরেও শেষ হয়নি ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুরের আবাসন প্রকল্প।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) একটি আবাসন প্রকল্প এখন প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও আর্থিক অনিয়মের বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালে ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প আট বছরেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। প্রকল্পের আর্থিক বিশৃঙ্খলার চিত্র উঠে এসেছে খোদ সরকারি অডিট প্রতিবেদনে।
প্রকল্পটির আর্থিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা:
বরাদ্দহীন ব্যয়: এজি অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কোনো বাজেট বরাদ্দ বা অনুমোদিত ডিপিপি (DPP) ছাড়াই ৭৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আইএমইডি বলছে, এর পক্ষে কোনো যথাযথ নথিপত্রও নেই।
ব্যয়বৃদ্ধি ও লক্ষ্যচ্যুতি: শুরুতে ব্যয় ২২৪ কোটি টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৪৭ কোটি টাকা করা হয়। বরাদ্দ বাড়লেও ফ্ল্যাট ও গ্যারেজের সংখ্যা উল্টো কমানো হয়েছে।
তদারকির নামে অপচয়: প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও তদারকির নামে ৩টি মোটরসাইকেল কিনতে খরচ করা হয়েছে ৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা।
নকশা জটিলতা: সরকারি স্থাপত্য অধিদপ্তরকে এড়িয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নকশা প্রণয়ন করে খরচ করা হয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ টাকা।
আরো পড়ুন: বিতর্ক যেন পিছুই ছাড়ছে না এলজিইডির: এইবার নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতির অভিযোগ
ভূমি অধিগ্রহণ ও আইনি জটিলতা
প্রকল্পটির মূল হোঁচট খাওয়ার জায়গা হলো ভূমি অধিগ্রহণ। ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুরের ৬টি প্লটের মধ্যে ৩টিই এখনও কর্তৃপক্ষের দখলে আসেনি।
টাকা দেওয়ার পরও দখলহীন: মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোড ও ইকবাল রোডের বাড়িগুলোর জন্য কয়েক কোটি টাকা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দেওয়া হলেও, বছরের পর বছর মামলা চলমান থাকায় জমি বুঝে পাওয়া যায়নি।
মামলার মারপ্যাঁচে: ধানমন্ডির কিছু প্লটের অবস্থাও একই; চারপাশ টিন দিয়ে ঘিরে সাইনবোর্ড টাঙানো থাকলেও ভেতরে ঝোপঝাড় ছাড়া কোনো উন্নয়ন হয়নি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অযোগ্যতা ও উদাসীনতা চরমে। মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউয়ে ছাদ ঢালাইয়ের পর দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ রাখা হয়। ধানমন্ডির একটি প্লটে কাজ করতে আসা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও লিকুইডেটেড ড্যামেজ বাবদ ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা অনাদায়ী রয়েছে। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, এই টাকা আদায়ের জন্য মামলা করা হয়েছে।
এত বছরের জট খোলার বিষয়ে গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখার যুগ্ম সচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ বলেন, “মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব জমি এখনও বুঝে পাওয়া যায়নি, সেগুলো বাদ দিয়ে প্রকল্পটি সংশোধন করা হবে। বর্তমানে দখলে থাকা জমিগুলোতে দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
আইএমইডি-র সুপারিশ অনুযায়ী, অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনিশ্চিত প্লটগুলো প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...