জীবনযাপনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কেবল সফলতাই আনে না, বরং এটি মানসিক প্রশান্তির অন্যতম চাবিকাঠি। কিছু সুঅভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা আমাদের পুরো জীবনটাই ইতিবাচকভাবে পরিচালনা করতে পারি।
জীবনযাপনে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কেবল সফলতাই আনে না, বরং এটি মানসিক প্রশান্তির অন্যতম চাবিকাঠি। কিছু সুঅভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা আমাদের পুরো জীবনটাই ইতিবাচকভাবে পরিচালনা করতে পারি। ইতিবাচক পথচলার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে লিখেছেন লামিসা নূর।
নেতিবাচকতা বর্জন: আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ থাকেন যাদের দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় নেতিবাচক। তারা আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপে বাধার সৃষ্টি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বাজে প্রভাব ফেলে। সুস্থ জীবনের জন্য এমন মানুষ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
বই পড়ার অভ্যাস: আত্মোন্নয়নমূলক বা মোটিভেশনাল বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি কেবল জ্ঞানই বাড়ায় না, বরং মানসিক চাপ কমিয়ে নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়। আপনার বিশেষ কোনো সমস্যা বা লক্ষ্য অর্জনের জন্য সহায়ক বইগুলো নির্বাচন করতে পারেন।
নিজেকে 'শিকার' ভাববেন না: জীবনে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঘটনা ঘটতে পারে, যার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে সবসময় নিজেকে পরিস্থিতির শিকার মনে করা শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর। পরিস্থিতি মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলুন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: যেসব স্মৃতি বা চিন্তা কষ্ট দেয়, সেগুলোকে এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। খারাপ চিন্তা মাথায় এলে জোর করে সেটিকে কোনো ভালো চিন্তায় রূপান্তর করুন। যদি নির্দিষ্ট কোনো গান বা স্থান আপনার মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, তবে আপাতত সেগুলো এড়িয়ে চলুন।
তুলনা নয়, নিজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা: প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বেড়ে ওঠায় আমরা প্রায়ই অন্যদের সঙ্গে নিজেদের তুলনা করি। মনে রাখবেন, সবার মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা এক নয়। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে বরং গতকালের নিজের চেয়ে আজকের নিজেকে কতটা উন্নত করা যায়, সেই লক্ষ্য রাখুন।
ক্ষমার শক্তি: কারও আচরণে আহত হলে ঘৃণা বা ক্ষোভ পুষে রাখা নিজেরই মানসিক শান্তি নষ্ট করে। ঘৃণা, ঈর্ষা ও অহংকার মনকে বিষাক্ত করে তোলে। তাই অন্যকে ক্ষমা করে দিয়ে নিজের মনকে হালকা করুন; এতে শারীরিকভাবেও সুস্থ থাকা যায়।
নতুন করে শুরু: পুরাতন জঞ্জাল পেছনে ফেলে আজই শুরু করুন নতুন পথচলা। যা যা করতে চান তা একটি কাগজে লিখে ফেলুন এবং একটি টাইমলাইন বা সময়সীমা নির্ধারণ করুন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলা যায়—
"বন্ধু হও, শত্রু হও, যেখানে যে কেহ রও/ ক্ষমা করো আজিকার মতো/ পুরাতন বরষের সাথে/ পুরাতন অপরাধ যত।"
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...