কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের কর্মচারী উসমান গনির অভিনব জালিয়াতি ফাঁস। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় অগ্রিম স্বাক্ষর করে তুলছেন বেতন। রাজনৈতিক প্রভাবে রেলে দুর্নীতির বিস্তারিত পড়ুন।
রেলে চাকরি করেন, মাস শেষে সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মিত বেতনও তোলেন; অথচ দিনের পর দিন কর্মস্থলে তাকে দেখেন না সহকর্মীরা। হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর থাকলেও বাস্তবে তিনি ‘নিখোঁজ’। কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের পয়েন্টসম্যান (পি-ম্যান) মো. উসমান গনির বিরুদ্ধে উঠেছে এমন অভিনব জালিয়াতির অভিযোগ।
সোমবার (১১ মে) কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজিরা খাতায় ১১ মে-এর ঘরের পাশাপাশি পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১২ মে-এর ঘরেও অগ্রিম স্বাক্ষর করে রেখেছেন উসমান গনি। রেলওয়ের বিধি অনুযায়ী প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তিনি একদিন আগেই পরের দিনের ডিউটি ‘সম্পন্ন’ দেখিয়ে রেখেছেন।
বর্তমানে জেলা রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী দলের আহ্বায়ক পদে আসীন উসমান গনি। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে রেলওয়েতে তার ইশারায় চলে লাভজনক খাতের নিয়ন্ত্রণ। এমনকি রেলের দোকান বরাদ্দ ও নিয়োগে ‘অলিখিত’ হস্তক্ষেপের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।এই উসমান একসময় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি থাকলেও গত বছরের এপ্রিলে পদ বাগিয়ে নেন শ্রমিক-কর্মচারী দলে।
রেলওয়ের পয়েন্টসম্যান বা সিগন্যালিংয়ের মতো সংবেদনশীল পদে একজন কর্মচারীর অনুপস্থিতি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। রাকিব হোসেন নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জালিয়াতির মাধ্যমে ফায়দা লুটার এই প্রবণতা রোধ করা না গেলে রেলওয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।”
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান বলেন, “ডিউটি না করে অগ্রিম স্বাক্ষর সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের-২ (ঢাকা) সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু রায়হান জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...