মৃত্যু ও কবরের বাস্তবতা নিয়ে একটি বিশেষ নিবন্ধ। দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে পরকালের প্রস্তুতির আহ্বান। আজ আমরা আছি, কাল অতীত।
একটু গভীর ভাবে ভাবুন— পবিত্র গোসল শেষে আপনি সাদা কাফনের কাপড়ে নিথর শুয়ে আছেন। নাকে তুলো গোঁজা, পাশে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ। ওদিকে কবর খোঁড়া হচ্ছে আপনার চিরস্থায়ী নিবাস হিসেবে। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হবে সেই যাত্রা, যেখান থেকে ফেরার আর কোনো পথ নেই। যে মুখে একদিন দাপুটে কথা ছিল, যে চোখে ছিল হাজারো রঙিন স্বপ্ন— আজ সবই স্তব্ধ। হে মানুষ! তবে কিসের এই অহেতুক বড়াই?
মৃত্যু: এক অমোঘ বাস্তবতা মৃত্যু কাউকে আগাম বার্তা দিয়ে আসে না। এটি ধনী-গরিব কিংবা ক্ষমতাশালী কাউকেই ছাড় দেয় না। আজ যারা আপনাকে কাঁধে চড়িয়ে বিদায় জানাচ্ছে, কাল হয়তো তাদেরও একইভাবে খাটিয়ায় শুতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন:
كُلُّ نَفْسٍ ذَائِقَةُ الْمَوْتِ ۗ ثُمَّ إِلَيْنَا تُرْجَعُونَ
অর্থাৎ: ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে; তারপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা আল-আনকাবূত: ৫৭)
পার্থিব মোহ ও কবরের সমাপ্তি মানুষ তার পদমর্যাদা, সম্পদ আর সৌন্দর্য নিয়ে মত্ত থাকে। কিন্তু কবরের অন্ধকারে এই আভিজাত্য কোনো কাজেই আসে না। যে অহংকার আজ মানুষকে অন্ধ করে রেখেছে, কবরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তার সব অর্থহীন হয়ে যাবে। এ বিষয়ে কুরআন আমাদের সতর্ক করে বলে:
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ
অর্থাৎ: ‘জেনে রাখো, পার্থিব জীবন তো খেলাধুলা, তামাশা, শোভা, পরস্পরের মধ্যে গর্ব করা এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্য লাভের প্রতিযোগিতা মাত্র।’ (সুরা আল-হাদিদ: ২০)
কবর: যেখানে আমলই শেষ কথা কবরে পরিচয় নয়, বরং আমল নিয়ে প্রশ্ন করা হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরের ভয়াবহ বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন:
الْقَبْرُ أَوَّلُ مَنْزِلٍ مِنْ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ، فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ، وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ
অর্থাৎ: ‘কবর হলো আখিরাতের প্রথম ধাপ। কেউ যদি এতে মুক্তি পায়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো তার জন্য সহজ হবে। আর যদি এতে মুক্তি না পায়, তবে পরবর্তী ধাপগুলো হবে আরও কঠিন।’ (তিরমিজি: ২৩০৮)
প্রস্তুতি ও আমাদের করণীয় মৃত্যুর স্মরণ মানুষের অহংকার চূর্ণ করে এবং তাকে বিনয়ী হতে সাহায্য করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ
অর্থাৎ: ‘তোমরা বেশি বেশি স্মরণ করো আনন্দ বিনাশকারীকে (মৃত্যু)।’ (তিরমিজি: ২৩০৭)। নিজেকে প্রস্তুত করতে আমাদের যা করা জরুরি:
১. তওবা ও আত্মশুদ্ধি: নিয়মিত নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। ২. অহংকার বর্জন: বিনয় ও নম্রতাকে জীবনের পাথেয় করা। ৩. হক আদায়: অন্যের পাওনা পরিশোধ করা এবং কারও ওপর জুলুম না করা। ৪. ইবাদতে যত্নবান: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকা।
আজ আপনি উপস্থিত, কাল হয়তো কেবল অতীত। যে দেহ নিয়ে আপনার এত দম্ভ, কাল তা তিন টুকরো কাপড়ে মোড়ানো থাকবে। কবরের নিস্তব্ধতায় কেউ আপনার পরিচয় জানতে চাইবে না, সেখানে শুধু আপনার নেক আমল কথা বলবে। তাই সময় থাকতে বড়াই ছেড়ে আল্লাহর পথে ফিরে আসুন। কারণ একটু পরেই— আমরা সবাই অতীত।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...