1ef41a04-0e40-44ac-8c99-5303a719e024.webp
নিউজ টাইম
৩০ আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ০৪:৫৩

প্রাচীন ডিএনএ থেকে বাইসন রক্ষার নতুন পথ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত
প্রাচীন ডিএনএ থেকে বাইসন রক্ষার নতুন পথ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা। ছবি: সংগৃহীত

৫০ হাজার বছরের পুরনো ডিএনএ বিশ্লেষণ করে বাইসনের ইতিহাস ও বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচার নতুন উপায় বের করেছেন বিজ্ঞানীরা। বিস্তারিত জানুন।

উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে একসময় প্রায় ৫ কোটি বাইসনের বিচরণ ছিল। কিন্তু উনিশ শতকের শেষভাগে এসে অবাধ শিকার এবং মানুষের বিরূপ কর্মকাণ্ডের ফলে এই প্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ৫০০-তে গিয়ে ঠেকেছিল। দীর্ঘ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্বারের প্রচেষ্টায় বাইসনের সংখ্যা আবার বাড়লেও, নতুন করে তাদের জেনেটিক বৈচিত্র্য বা জিনগত ভিন্নতা হারানোর আশঙ্কায় পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাচীন ও বর্তমান বাইসনের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে তারা প্রাণীটির ইতিহাস অনুসন্ধানের পাশাপাশি ভবিষ্যত সুরক্ষার উপায় বের করছেন।


সাইবেরিয়া থেকে উত্তর আমেরিকা: বাইসনের দীর্ঘ পথচলা

আমেরিকান বাইসন (Bison bison) গত প্রায় ২ লাখ বছর ধরে উত্তর আমেরিকা মহাদেশে বিচরণ করছে। গবেষকদের মতে, এদের পূর্বপুরুষেরা সাইবেরিয়া থেকে বেরিং স্থলসেতু (Bering Land Bridge) পার হয়ে উত্তর আমেরিকায় প্রবেশ করে।


আজ থেকে প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বছর আগে মানববসতি গড়ে ওঠার পর থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে এই প্রাণীটি। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান ও দৈনন্দিন সরঞ্জাম তৈরির জন্য আদিবাসীরা পুরোপুরি বাইসনের ওপর নির্ভরশীল ছিল।


আরও পড়ুন: শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টার থেকে বিরল কালনাগিনী সাপ উদ্ধার


উনিশ শতকের বিপর্যয় ও জেনেটিক সংকট

১৮৬০-এর দশক থেকে ইউরোপীয় শিকারিদের নির্বিচার শিকারের শিকার হয় বাইসন। ফলে ১৮৯০ সালের মধ্যে তাদের সংখ্যা কমে মাত্র ৫০০-এ দাঁড়ায়। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী, পরিবেশবাদী, পশুপালক ও স্থানীয় আদিবাসীদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সংখ্যা আবার বাড়তে থাকে। বর্তমানে উত্তর আমেরিকায় বাইসনের সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার।


সংখ্যা বাড়লেও উনবিংশ শতকের সেই ভয়াবহ পতন বাইসনের জিনগত বৈচিত্র্যে মারাত্মক সংকট তৈরি করেছে। বাইসনের ছোট ছোট দলগুলো একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক জিন আদান-প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে:


অন্তঃপ্রজনন (Inbreeding) বৃদ্ধি

বন্ধ্যত্ব ও জন্মগত শারীরিক ত্রুটি

সংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।


আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যেভাবে দেশে ঢুকছে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা ও বিদেশি বন্যপ্রাণী


প্রাচীন ডিএনএ গবেষণায় বিজ্ঞানীদের নতুন উদ্ভাবন

বিপদ কাটাতে 'বাইসন ইন্টিগ্রেটেড জিনোমিকস' (BIG) প্রজেক্টের গবেষকেরা ১৬০টি ঐতিহাসিক ও প্রাচীন নমুনার সম্পূর্ণ জিনোম মানচিত্র বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে পুরনো নমুনাটির বয়স প্রায় ৫০ হাজার বছর।


গবেষণায় জানা গেছে, গত ১০ হাজার বছর ধরে মহাদেশজুড়ে বাইসনের অবাধ চলাচলের কারণে তাদের জিনগত গঠন সতেজ ছিল। বিচ্ছিন্ন পালগুলোর জিনগত বৈচিত্র্য ফেরাতে বিজ্ঞানীরা এখন বায়োব্যাংক বা জিনের সংরক্ষণাগার তৈরির পাশাপাশি কৃত্রিম বা সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছেন।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৯৪

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...