প্রিন্সেস ডায়ানার সৌন্দর্য, চ্যারিটি কাজ, রাজপরিবারের সাথে বিচ্ছেদ এবং প্যারিসের মর্মান্তিক মৃত্যু ও তার জীবন কাহিনী নিয়েই এই বিশেষ প্রতিবেদন।
কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয়—বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও সুন্দরী নারী কে? তালিকায় যে ক'টি নাম উঠে আসবে, তার মধ্যে শীর্ষে থাকবে 'প্রিন্সেস ডায়ানা'। যিনি কেবল সৌন্দর্যের দ্যুতিই ছড়াননি, রাজপ্রাসাদের সীমানা ছাড়িয়ে নিজের মানবিকতা দিয়ে ছুঁয়ে গিয়েছিলেন বিশ্ববাসীর হৃদয়। তবে এত রূপ আর গুণের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও এই 'জনগণের রাজকন্যার' ব্যক্তিজীবন সুখের হয়নি; তাঁর জীবনের সমাপ্তি ঘটেছিল বুকভরা প্রতারণা ও ট্র্যাজেডির ক্ষত নিয়ে।
১৯৬১ সালের ১ জুলাই ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী স্পেন্সার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডায়ানা। কৈশোরে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকা ও আয়া হিসেবে কাজ করলেও ১৯৮১ সালের ২৯ জুলাই সেন্ট পলস ক্যাথেড্রালে প্রিন্স চার্লসের সাথে এক জমকালো রাজকীয় বিয়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে পদার্পণ ঘটে তাঁর। বিয়ের পর তিনি লাভ করেন 'প্রিন্সেস অব ওয়েলস' উপাধি।
শৈশব থেকেই সংগীত ও ফ্যাশনের আইকন ডায়ানা নিজের খ্যাতির জোয়ারকে ব্যবহার করেন জনসেবায়। বিশেষ করে ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যে এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত এক রোগীর সাথে সশরীরে কোনো গ্লাভস না পরে হাত মিলিয়ে তিনি যুগান্তকারী উদাহরণ সৃষ্টি করেন। স্পর্শের মাধ্যমে এইডস ছড়ায়—এমন সামাজিক কুসংস্কার ভেঙে দিতে তাঁর এই একটি পদক্ষেপই যথেষ্ট ছিল। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণের পক্ষেও তিনি সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন।
দুই সন্তান—প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারির জন্ম হলেও চার্লস-ডায়ানার দাম্পত্য জীবন বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরকীয়াসহ নানা তিক্ততার জেরে ১৯৯২ সালে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা হন এবং ১৯৯৬ সালের ২৮ আগস্ট তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। কেনসিংটন প্যালেস ও 'প্রিন্সেস অব ওয়েলস' পদবী ধরে রাখলেও, বিচ্ছেদের শর্ত হিসেবে ডায়ানাকে 'হার রয়্যাল হাইনেস' রাজকীয় খেতাব এবং সিংহাসনের দাবি ত্যাগ করতে হয়।
রাজপরিবার থেকে বিচ্ছেদের পর মিসরীয় ধনকুবের দোদি আল-ফায়েদের সাথে সম্পর্কে জড়ান ডায়ানা। কিন্তু পাপারাজ্জিদের (স্বাধীন আলোকচিত্রী) অব্যাহত পিছু ধাওয়া তাঁদের জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ায়।
১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রাতে প্যারিসের 'রিটজ হোটেল' থেকে বের হয়ে পাপারাজ্জিদের এড়াতে গিয়ে তাঁদের দ্রুতগতির মার্সিডিজ গাড়িটি 'পঁ দ্য লমা' সেতুর ১৩ নম্বর স্তম্ভে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দোদি ও চালক অঁরি পল। মারাত্মকভাবে আহত ডায়ানাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও ভোর ৪টায় মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মারা যান এই মানবিক রাজকন্যা।
প্যারিসের এই ট্র্যাজেডি নিয়ে ২০০৬ সালের তদন্তে উঠে আসে, চালক অঁরি পলের রক্তে অতিরিক্ত অ্যালকোহল এবং পাপারাজ্জিদের বিপজ্জনক ধাওয়াই ছিল এই 'অবৈধ হত্যাকাণ্ডের' মূল কারণ।
ডায়ানার মৃত্য বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন শোকের ঢেউ তোলে। তাঁর প্রস্থানের পর ব্রিটিশ রাজপরিবার নিজেদের কঠোর ও দূরত্ব বজায় রাখা ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষের সাথে আরও নিবিড়ভাবে মিশতে বাধ্য হয়। প্রিন্সেস ডায়ানা রাজপ্রাসাদ হারিয়েছিলেন ঠিকই, তবে বিশ্ববাসীর হৃদয়ে গড়ে যাওয়া সিংহাসন আজও অটুট।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...