মিরপুরে উদ্ধার হলো ট্যারান্টুলা মাকড়সা ও বিষাক্ত সাপসহ ১ হাজার ১০৪টি নিষিদ্ধ বিদেশি প্রাণী। বাংলাদেশে অবৈধ বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের গোপন রহস্য ও ঝুঁকি নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে এক ঝটিকা অভিযানে বিষাক্ত ট্যারান্টুলা মাকড়সা, ম্যাক্সিকান ব্ল্যাক কিং স্নেক, কর্ন স্নেক, ডাম্পি ফ্রগ, লেপার্ড গেকো এবং সাইডনেক কচ্ছপসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির ১ হাজার ১০৪টি নিষিদ্ধ বিদেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এসব প্রাণীর বেশিরভাগেরই আমদানি, সংরক্ষণ ও বেচাকেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এগুলো সীমান্ত পেরিয়ে দেশের বাজারে প্রবেশ করছে এবং কেনই-বা এর চাহিদা আকাশচুম্বী হচ্ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ-আস-সাদিক জানান—চোরাকারবারিরা সাধারণত অ্যাকুরিয়ামের রঙিন মাছ, লতাপাতা বা অন্যান্য বৈধ আমদানি পণ্যের আড়ালে কাস্টমসকে ফাঁকি দিয়ে এসব নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত প্রাণী দেশে নিয়ে আসছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী এই অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানান—মিরপুরের ওই গোপন আস্তানা থেকে অভিযানের আগেই আরও কয়েক হাজার প্রাণী বিক্রি হয়ে গেছে। এই বিপুল চাহিদা শুধু শখের বশে পালনের জন্যই নয়; বরং বাংলাদেশকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পাচারের উদ্দেশ্যেও এসব প্রাণী আনা হয়ে থাকতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া এই বিষাক্ত ও বিদেশি প্রাণীর অনুপ্রবেশ নিয়ে বড় ধরনের বৈজ্ঞানিক সতর্কতা জারি করেছেন। তাঁর মতে—যথাযথ পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা ছাড়া এসব প্রাণী দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে এবং কোনোভাবে তা লোকালয় বা বনে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। একই সাথে এসব বিদেশি বন্যপ্রাণীর শরীর থেকে মানবদেহে সম্পূর্ণ নতুন ও মারাত্মক কোনো রোগজীবাণু বা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...