কায়েতপাড়ার ‘খাড়া মোশারফ’-এর বিরুদ্ধে কবরস্থান ও শ্মশান দখলের ভয়াবহ অভিযোগ। জাল দলিল তৈরি ও জমি জালিয়াতির মাধ্যমে কসাই থেকে কোটিপতি হওয়ার চাঞ্চল্যকর কাহিনী।
একসময় চরম দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করা মোশারফ, যিনি এখন ‘খাড়া মোশারফ’ নামে পরিচিত, তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে জমি জালিয়াতি ও দখলের পাহাড়সম অভিযোগ। কসাইয়ের দোকান থেকে শুরু করে দিনমজুরি ও মাটি কাটার কাজ করা এই ব্যক্তি এখন কয়েক কোটি টাকার মালিক। অভিযোগ উঠেছে, জাল দলিল বা ‘খাড়া দলিল’ তৈরি করে তিনি সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি থেকে শুরু করে পবিত্র কবরস্থান ও শ্মশান পর্যন্ত দখল করে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মোশারফের জীবনের শুরুটা ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তিনি কসাইয়ের দোকানে কাজ করতেন, পরে মোবাইল সার্ভিসিং ও দিনমজুরির কাজও করেছেন। তবে স্থায়ী কোনো পেশায় থিতু হতে না পেরে তিনি বেছে নেন ‘খাড়া দলিল’ বা জাল কাগজ তৈরির পথ। এর মাধ্যমেই রাতারাতি তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় এবং তিনি বিপুল অর্থের মালিক বনে যান।
অভিযোগের ভয়াবহতা ফুটে ওঠে যখন এলাকাবাসী জানান:
সামাজিক কবরস্থান বিক্রি: কায়েতপাড়ার নিমেরটেক গ্রামের একটি সামাজিক কবরস্থানের জমি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সংখ্যালঘু নির্যাতন: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বসতভিটা দখল ও বিক্রির অভিযোগও রয়েছে দীর্ঘদিনের।
অন্যান্য দখল: ঈদগাহ ও শ্মশানের জমিও তাঁর এই জালিয়াতি চক্রের হাত থেকে রেহাই পায়নি।
মোশারফের বিরুদ্ধে কেবল জমি দখলই নয়, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির অভিযোগও তুলেছেন অনেকে। অভিযোগ আছে, তিনি এক সময় একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় কর্মী থাকলেও বর্তমানে অন্য একটি দলের পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ছবি পোস্ট করে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
মোশারফের কর্মকাণ্ডে নিমেরটেক ও আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা এই ‘জালিয়াত চক্রের’ মূল হোতা মোশারফের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...