শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন পিছিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছেন আদালত। জয় বাংলা ব্রিগেডের জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এই মামলা।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে 'জয় বাংলা ব্রিগেড'-এর সভায় অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পিছিয়ে আগামী মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আব্দুস সালাম এই আদেশ দেন। এদিন মামলাটির অভিযোগ গঠনের জন্য দিন নির্ধারিত ছিল।
আদালতের কার্যক্রম: শুনানির সময় কারাগারে থাকা ৩০ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে ৫ জন নারী ও ২৫ জন পুরুষ আসামি ছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। সব আসামির শুনানি শেষ না হওয়ায় আদালত পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ: মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ নামক একটি জুম মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ড. রাব্বি আলমের হোস্টিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দেশ-বিদেশের প্রায় ৫৭৭ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। অভিযোগ রয়েছে যে:
সভায় বর্তমান সরকারকে উৎখাত করে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে ‘গৃহযুদ্ধ’ করার শপথ নেওয়া হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে না দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন।
শেখ হাসিনা পলাতক থাকা অবস্থায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নাশকতামূলক নির্দেশ দেন।
আইনি প্রক্রিয়া: ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে মোট ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এই মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য আসামি: মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ড. রাব্বি আলম, সাবেক এমপি পঙ্কজ নাথ, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ প্রভাবশালী অনেক আওয়ামী লীগ নেতার নাম রয়েছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...