নিউজ টাইম
১১ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪

সুন্দরবনে পুকুর পার হচ্ছে এক পাল হরীন।ছবি: সংগৃহীত
সুন্দরবনে পুকুর পার হচ্ছে এক পাল হরীন।ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক গবেষণায় সুন্দরবনের অস্তিত্ব সংকটের চিত্র স্পষ্ট। ২৫ বছরে বনের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার ক্ষমতা হ্রাস ও লবণাক্ততার দাপটে ধুঁকছে ম্যানগ্রোভ বন। বিস্তারিত পড়ুন।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের সুরক্ষা কবচ এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এখন নিজেই এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা 'কমিউনিকেশন আর্থ অ্যান্ড এনভারমেন্ট'-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র—গত ২৫ বছরে সুন্দরবন তার স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার ক্ষমতা বা ‘রেজিলিয়েন্স’ (Resilience) উল্লেখযোগ্যভাবে হারিয়েছে।


আরো পড়ুন: চট্টগ্রামকে আধুনিক মহানগরীর রূপ দিতে সিডিএ-এর ২৫ বছরের মাস্টারপ্ল্যান


গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সুন্দরবনের প্রায় ৬১০ থেকে ৯৯০ বর্গকিলোমিটার এলাকার বাস্তুসংস্থান মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। গবেষকরা একে বলছেন ‘ক্রিটিক্যাল স্লোয়িং ডাউন’, অর্থাৎ বনটি কোনো প্রাকৃতিক আঘাতের পর আগের অবস্থায় ফিরে আসার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।


ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল: সাতক্ষীরা থেকে শরণখোলা রেঞ্জ পর্যন্ত বনের দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

বিপর্যয়ের কারণ: ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিডর, রেশমি ও আইলা বনের ওপর যে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে, তা আজও পূরণ হয়নি।


সুন্দরবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে লবণাক্ততা বৃদ্ধিকে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উজান থেকে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরী গাছে 'টপ ডাইং' বা আগামরা রোগ মহামারি আকার ধারণ করেছে। বন এখন আগের চেয়ে পাতলা হয়ে গেছে এবং এর চাঁদোয়া (Canopy) ছোট হয়ে আসছে।


পরিবেশ ও অর্থনীতির আঘাত

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী:


কার্বন শোষণ নয়, নিঃসরণ: সুন্দরবন এখন কার্বন শোষণের বদলে উল্টো কার্বন নিঃসরণ করছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতি: প্রতি বছর প্রায় ১৬.৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের কাঠের ক্ষতি হচ্ছে।

জীববৈচিত্র্যের ঝুঁকি: বাঘ, হরিণ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর বাসস্থান এখন হুমকির মুখে।


মানবসৃষ্ট সংকট ও উজান থেকে পানির অভাব

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বনটিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।


অবৈধ দখল: বনের ভেতরে চিংড়ি ঘের তৈরি ও বাঁধ দিয়ে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা।

ফারাক্কার প্রভাব: উজান থেকে মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাটিতে লবণাক্ততা ও ফসফরাসের মাত্রা বেড়ে গেছে, যা গাছের স্বাভাবিক পুষ্টি গ্রহণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।


বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ

সুন্দরবনকে বাঁচাতে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন পরিবেশবিদরা:


১. মিঠা পানির প্রবাহ: গড়াইসহ সুন্দরবনের শাখা নদীগুলো খনন করে উজান থেকে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।

২. প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: ড্রোন ও স্মার্ট প্যাট্রোলিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ গাছ কাটা ও বন সম্পদ লুটপাট বন্ধ করা।

৩. লবণাক্ততা সহিষ্ণু বনায়ন: দুর্বল এলাকায় নতুন করে লবণাক্ততা সহিষ্ণু গাছ লাগানো।

৪. জনসম্পৃক্ততা: বনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে বন রক্ষার কাজে তাদের অংশীদার করা।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৬১

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...