অতিরিক্ত করের চাপে ধুঁকছে দেশের ৫০ হাজার কোটি টাকার পোল্ট্রি শিল্প। উৎপাদন ব্যয় দ্বিগুণ হওয়ায় হাজারো খামার বন্ধের পথে। আসন্ন বাজেটে বিশেষ কর অব্যাহতির দাবি সংশ্লিষ্টদের।
নব্বইয়ের দশক থেকে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা পূরণ করে আসা বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। খাদ্যসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কাঁচামাল আমদানিতে মাত্রাতিরিক্ত কর ও শুল্কের কারণে এই শিল্পটি এখন রুগ্ণ দশায় পতিত হয়েছে। খামারিদের মতে, বর্তমান কর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকলে এই বিশাল খাতটি পুরোপুরি করপোরেট কোম্পানির কব্জায় চলে যাবে।
করের চাপে পিষ্ট পোল্ট্রি শিল্প
চলতি বাজেটে পোল্ট্রি খাতে করের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে, যা খামারিদের সক্ষমতাকে কমিয়ে দিয়েছে:
করপোরেট কর: ১৫% থেকে বাড়িয়ে ২৭.৫% করা হয়েছে।
অগ্রিম আয়কর (AIT): ১% থেকে বাড়িয়ে ৫% করা হয়েছে।
টার্নওভার কর: ০.৬% থেকে বাড়িয়ে ১% নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন: রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী
এসবের পাশাপাশি খাদ্য উপকরণের উচ্চ মূল্য খামারিদের উৎপাদন ব্যয়কে গত ৫ বছরে প্রায় দ্বিগুণ করে দিয়েছে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)-এর তথ্যমতে, গত ৫ বছরে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার সাথে সাথে প্রবৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে:
২০২১: উৎপাদন ব্যয় ভিত্তি ১০০, প্রবৃদ্ধি ৪.৫%।
২০২৫ (প্রাক্কলিত): উৎপাদন ব্যয় বেড়ে ১৯০, প্রবৃদ্ধি কমে ৩.২%।
প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এই খাতে করের বোঝা অনেক বেশি। পাকিস্তানে ফিড মিলগুলো টার্নওভারের ভিত্তিতে মাত্র ৭.৫-১৫% কর দেয়। ভারতে কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর থেকে কর তুলে নেওয়া হলেও, বাংলাদেশে পশুখাদ্য আমদানিতে এখনো ৫% অগ্রিম কর বহাল রাখা হয়েছে।
খাতটি বাঁচাতে এবং প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞরা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্নোক্ত দাবিগুলো জানিয়েছেন:
১. কর ও শুল্ক হ্রাস: সব ধরনের কর ও শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে আনা।
২. টার্নওভার কর: টার্নওভার কর ০.২% এ নামিয়ে আনা এবং মুনাফার সাথে সমন্বয় করা।
৩. প্রণোদনা: পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদনের যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কছাড় এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, “প্রান্তিক খামারিরা টিকে থাকতে না পারলে পুরো শিল্পটি করপোরেটদের হাতে চলে যাবে। তখন সাধারণ ভোক্তাদের তাদের বেঁধে দেওয়া চড়া দামেই পণ্য কিনতে হবে।”
এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৬০-৭০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই বিশাল কর্মসংস্থান এবং আমিষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...