সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১ হাজার ১৩৪ শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের হওয়া মূল হত্যা মামলাসহ বাকি ৫ মামলা এখনও আইনি জটিলতায় ঝুলে আছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন।
২৪ এপ্রিল আজ; বিশ্ব শিল্প ইতিহাসের অন্যতম কালো দিন। আজ থেকে ১৩ বছর আগে ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারের রানা প্লাজা ধসে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল গোটা দেশ। ধূলিসাৎ হয়েছিল ১ হাজার ১৩৪টি তাজা প্রাণ, আর পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে আজও বেঁচে আছেন দুই সহস্রাধিক মানুষ। তবে দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের পরিবার কিংবা পঙ্গু শ্রমিকরা পাননি কাঙ্ক্ষিত ন্যায়বিচার। অধিকাংশ মামলাই এখনও আইনি জটিলতা আর সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে।
মামলার পাহাড়: কোথায় কোন অবস্থায়?
রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মোট ৬টি প্রধান মামলা এবং শ্রম আদালতে আরও ১১টি মামলা হয়। এর মধ্যে কেবল দুর্নীতির একটি মামলায় রায় হয়েছে। বাকিগুলোর অবস্থা নিচে দেওয়া হলো:
হত্যা মামলা: ৪১ জন আসামির মধ্যে ভবন মালিক সোহেল রানা ছাড়া সবাই জামিনে। ৫৯৪ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৪৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, চলতি বছরের মধ্যে রায় হতে পারে।
ইমারত নির্মাণ আইন (রাজউকের মামলা): নকশা জালিয়াতির এই মামলায় ১৮ জন আসামি থাকলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ আর সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে বিচার থমকে আছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক): ভবন নির্মাণে দুর্নীতির মামলাটি এখন যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। ১৯ মে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হলেও গত এক বছর ধরে যুক্তিতর্ক চলছে।
অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইন: সোহেল রানার বিরুদ্ধে এই দুই মামলা এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়েই রয়ে গেছে।
বিচারে দীর্ঘসূত্রতার কারণ
আইনজীবীদের মতে, সাক্ষী হাজির না হওয়া এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশই বিচার বিলম্বের প্রধান কারণ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফয়সাল মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ সময় তদন্ত ও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বিচার থমকে ছিল। তবে বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ দ্রুত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী সোহেল রানার দীর্ঘ হাজতবাসের প্রসঙ্গ টেনে দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...