ভারতের বিএসএফ কর্তৃক জোরপূর্বক পুশইন চেষ্টার কারণে বাংলাদেশ সীমান্তে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই উত্তেজনার মাঝেই আজ দিল্লিতে শুরু হচ্ছে বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন।
দেশের উত্তর ও পশ্চিম সীমান্তজুড়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জোরপূর্বক পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ করানোর অপচেষ্টা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই ছাড়াই রাতের আঁধারে নারী ও শিশুদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার এই প্রবণতা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আজ সোমবার (৮ জুন) ভারতের নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন। বৈঠকে সীমান্ত হত্যার পাশাপাশি এই পুশইন ইস্যুটি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করবে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: রৌমারী সীমান্তে ৮ ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা: বিজিবি ও জনতার বাধা
সাম্প্রতিক সময়ে লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও মেহেরপুর সীমান্তে একাধিক পুশইন চেষ্টার ঘটনা রুখে দিয়েছে বিজিবি। পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে বিজিবির বাধার মুখে পড়ে টানা তিন দিন ধরে শূন্যরেখার ফসলি জমিতে খোলা আকাশের নিচে অবর্ণনীয় কষ্ট ভোগ করছেন ১০ জন নারী ও শিশু। একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিজিবিও কাউকেই বাংলাদেশে ঢুকতে দেবে না। অন্যদিকে নওগাঁ সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে রাত্রিকালীন টহলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বিজিবি।
বিএসএফের এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে খোদ ভারতের ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রটিক রাইটস’ (এপিডিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিএসএফ বন্দুকের ভয় দেখিয়ে নারী ও শিশুদের জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সংগঠনটির সহসভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ নোংরা রাজনীতির অংশ হিসেবে বাংলাভাষী মানুষদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে জিরো পয়েন্টে খাবার ও পানীয় জল ছাড়া আটকে রাখা হয়েছে। তিনি অবিলম্বে এই ‘পুশব্যাক’ নীতি বাতিলের দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কনস্যুলার যোগাযোগ ও নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করে ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির এবং চীনে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, একতরফাভাবে কাউকে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া দুই দেশের পারস্পরিক আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে দুই দেশের গভীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বার্থেই নয়াদিল্লির এই বৈঠক থেকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতি মেনে পুশইন সমস্যার একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধান বের করা জরুরি।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...