নিউজ টাইম
১১ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১১:১২

বিপুল পরিমাণ বকেয়ার সঙ্গে জ্বালানির বাড়তি মূল্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে নতুন করে চাপে ফেলে দিয়েছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিপুল পরিমাণ বকেয়ার সঙ্গে জ্বালানির বাড়তি মূল্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে নতুন করে চাপে ফেলে দিয়েছে। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রকট সংকট। বকেয়া বিল ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিস্তারিত পড়ুন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকারকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যার ফলে বিদ্যুৎ বিভাগ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ মাসের জন্য আরও ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে।


আরো পড়ুন: রাজধানীর বাজারে মাছ, মুরগি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী


বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতা এবং অতীতের বকেয়া বিলের ভার—এই দুইয়ের চাপে খাতটি কোণঠাসা।


বিপুল বকেয়া: সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে বর্তমানে বিদ্যুৎ বিক্রির বকেয়া বিল ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

ভর্তুকির চাপ: বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও, বাড়তি অর্থ বরাদ্দ হলে তা মাসে ৫ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকবে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে মোট ভর্তুকির পরিমাণ ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জ্বালানি মূল্যের ব্যবধান: মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রতি লিটার ডিজেলে প্রকৃত মূল্য প্রায় ১৫৫ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এই বিশাল গ্যাপ পূরণে সরকার হিমশিম খাচ্ছে।


গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি: লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও, গ্রীষ্মকালীন পিক আওয়ারের চাহিদাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে।


চাহিদা: এবারের গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট।

জ্বালানি সংকট: যুদ্ধের কারণে এলএনজি ও কয়লা আমদানির স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ঘাটতি পূরণে খোলাবাজার থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হচ্ছে, যা এক মাসেই প্রায় ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ঘাটতি তৈরি করেছে।

সাশ্রয়ী পদক্ষেপ: সংকট মোকাবিলায় সরকার সন্ধ্যার পর বিপণিবিতান বন্ধ রাখা এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানিয়েছে।


পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক: স্থায়ী সংঘাত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। জাহাজের শিডিউল বিপর্যয়ে খোলাবাজার থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে গিয়েই আর্থিক ঘাটতি বেড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম: "জ্বালানি নিয়ে জনমনে যে আতঙ্ক কাজ করছে, তা দূর করতে হলে যুদ্ধ বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রয়োজন। আতঙ্ক থেকেই মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করছে, যা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করছে।"

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৬১

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...