profile
নিউজ টাইম
১২ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ০৪:৫৯

সংসদ অধিবেশন। ফাইল ফটো
সংসদ অধিবেশন। ফাইল ফটো

ব্যাংক রেজল্যুশন বিল ২০২৬ পাস। বিতর্কিত ১৮(ক) ধারায় ব্যাংকের মালিকানায় ফেরার সুযোগ ও অর্থনীতিবিদদের শঙ্কা। ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ নিয়ে পুরো ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতিবিদ মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। বিশেষ করে নতুন সংযোজিত ১৮(ক) ধারা ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতার ভিত্তি দুর্বল করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।


বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু: ১৮(ক) ধারা

নতুন এই বিলে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হলো— পুরোনো শেয়ারধারী কিংবা নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে।


সরকারি যুক্তি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এটি অর্থনীতির বাস্তবতায় ব্যাংকিং খাতে মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য একটি ‘নতুন সুযোগের জানালা’। এর মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে আর্থিক চাপ কমবে এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

সমালোচকদের উদ্বেগ: বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনসহ অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যারা ব্যাংকটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে, তারাই পুনরায় মালিকানায় ফিরলে দেশে এক ধরনের ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ বা ইমপিউনিটি তৈরি হতে পারে।


কী পরিবর্তন এল এই বিলে?

অধ্যাদেশ থেকে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় বিলটিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে:


ধারার পুনর্বিন্যাস: অধ্যাদেশের ৯৮টি ধারা থেকে কমিয়ে নতুন বিলে ৭৫টি করা হয়েছে।

নতুন রেফারেন্স: ‘ব্যাংক আমানত বিমা আইন, ২০০০’-এর পরিবর্তে যুক্ত করা হয়েছে ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’।

স্বেচ্ছা অবসায়ন: বিল থেকে স্বেচ্ছা অবসায়ন সংক্রান্ত অধ্যায়টি বাদ দেওয়া হয়েছে।


একীভূত ৫ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ও অস্বস্তি

নতুন এই আইনের ফলে আলোচিত এস আলম গ্রুপ ও নাসা গ্রুপের মতো পূর্বতন নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে ব্যাংকপাড়ায় ব্যাপক গুঞ্জন রয়েছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই বিল পাস হওয়ার পর এক ধরনের অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আমানতকারীরা তাদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন।


আইনের ১৮(ক) ধারায় বলা হয়েছে, মালিকানায় ফিরতে হলে আবেদনকারীকে একটি বিস্তারিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। যেখানে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব আর্থিক সহায়তা পরিশোধ, মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।


সংসদে পাস হওয়া এই বিলটি কার্যকর হলে তা দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাবে, নাকি পুরোনো অনিয়মকারীদের পুনর্বাসনের পথ প্রশস্ত করবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৭৮

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...