গবেষকদের মতে, উগান্ডার শিম্পাঞ্জিরা এক ভয়ঙ্কর 'গৃহযুদ্ধে' লিপ্ত। সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত নতুন গবেষণা বলছে, নগোগো শিম্পাঞ্জিরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে একে অপরের প্রাণ নিচ্ছে।
একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যারা একে অপরের হাত ধরে ঘুরে বেড়াত, তারাই এখন প্রাণঘাতী লড়াইয়ে লিপ্ত। উগান্ডার কিবালে জাতীয় উদ্যানের ‘নগোগো’ শিম্পাঞ্জি সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘ আট বছর ধরে চলা এই ‘গৃহযুদ্ধ’ বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করেছে। ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই সংঘাত শিম্পাঞ্জিদের সামাজিক কাঠামোর এক ভয়াবহ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নগোগো শিম্পাঞ্জি দলটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২০০ সদস্য নিয়ে সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের জুন মাস থেকে দলটির মধ্যে ফাটল ধরা শুরু হয়।
সংঘাতের ভয়াবহতা: ২০১৮ সাল থেকে বিজ্ঞানীরা ১৭টি শিশুসহ মোট ২৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত করেছেন।
দলের বিভক্তি: দলটি এখন ‘পশ্চিমা’ ও ‘মধ্যাঞ্চলীয়’—এই দুইভাগে বিভক্ত হয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত।
আক্রমণের ধরন: গবেষক অ্যারন স্যান্ডেল জানিয়েছেন, আগে যারা একসাথে খাবার খেত বা একে অপরকে পরিচর্যা করত, এখন তারাই নতুন দলভিত্তিক পরিচয়ের কারণে প্রাণঘাতী আক্রমণের শিকার হচ্ছে।
সংঘাতের তিনটি সম্ভাব্য কারণ
গবেষকরা এই সংঘাতের পেছনে তিনটি প্রধান অনুঘটককে দায়ী করছেন:
১. সামাজিক বন্ধন দুর্বল হওয়া: ২০১৪ সালে পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও একজন মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু দলের সামাজিক কাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করেছিল।
২. নেতৃত্বের পরিবর্তন: ২০১৫ সালে দলপতি পুরুষ শিম্পাঞ্জির পরিবর্তন দলের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে লড়াই ও আগ্রাসন বাড়িয়ে দেয়।
৩. মহামারি: ২০১৭ সালে শ্বাসতন্ত্রের মহামারিতে ২৫টি শিম্পাঞ্জির মৃত্যু হয়, যার ফলে দলের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা হারিয়ে যায়।
বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ ও মানব সমাজ
টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞানী অ্যারন স্যান্ডেল বলেন, “শিম্পাঞ্জিরা অত্যন্ত এলাকা-সচেতন এবং অপরিচিতদের প্রতি ভয়ের মতো আচরণ তাদের নতুন দলে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।”
গবেষকদের মতে, মানুষ এবং শিম্পাঞ্জির জিনগত সাদৃশ্য থাকায় এই গবেষণাটি মানব সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহ নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জার্মানির প্রাইমেট সেন্টারের গবেষক জেমস ব্রুকস মন্তব্য করেছেন, এটি মানব সমাজের গোষ্ঠীগত বিভাজন যে বিপদ ডেকে আনতে পারে, তার একটি বড় স্মারক।
শিম্পাঞ্জিদের এই ‘গৃহযুদ্ধ’ প্রমাণ করে যে, সামাজিক সম্পর্ক ও গতিশীলতা যুদ্ধের পেছনে কতটা বড় কার্যকারণ হতে পারে—তা যুদ্ধবাজ মানুষের ক্ষেত্রেও সত্য হতে পারে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...