নিউজ টাইম
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ০৪:৪৩

ডিজেল ও সার সংকটে করণীয়। গ্রাফিক্স: নিজস্ব
ডিজেল ও সার সংকটে করণীয়। গ্রাফিক্স: নিজস্ব

ডিজেল ও সার সংকটে দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পরেছে। বোরো মৌসুমের সংকট কাটাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

বাংলাদেশের কৃষি খাত বর্তমানে এক সংবেদনশীল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভরা বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের ঘাটতি, উচ্চমূল্য এবং বাজারে সারের অপ্রতুলতা কৃষি উৎপাদনকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। কোথাও কোথাও ইউরিয়া সার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০-৬০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, আবার ডিজেলের অভাবে সেচ পাম্প বন্ধ থাকায় জমি শুকিয়ে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি শুধুমাত্র কৃষকের আয় কমাবে না, বরং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আরও পড়ুন: ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম: ডিজেল ১৫ ও অকটেনে ২০ টাকা বৃদ্ধি


সংকটের নেপথ্যে কাঠামোগত কারণ

১. গ্যাস সংকট ও সার কারখানা বন্ধ: গ্যাস স্বল্পতার কারণে সিলেট, চট্টগ্রাম, জামালপুর ও আশুগঞ্জের প্রধান সার কারখানাগুলো বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ। বর্তমানে কেবল ঘোড়াশাল-পলাশ কারখানায় সীমিত আকারে (দৈনিক প্রায় ২ হাজার মেট্রিক টন) ইউরিয়া উৎপন্ন হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য।

২. জ্বালানি নির্ভরতা: দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সেচ ব্যবস্থা এখনও ডিজেল-নির্ভর, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

৩. সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা: পরিবহন সংকট ও ডিলার পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়েছে।


তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী করণীয়

সংকট মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে:


জরুরি সরবরাহ: কৃষি অঞ্চলে ডিজেলের 'অগ্রাধিকার সরবরাহ' নিশ্চিত করা এবং ডিলার পর্যায়ে নজরদারি বাড়িয়ে সারের দাম নিয়ন্ত্রণ করা।

সেচ ব্যবস্থাপনা: বিদ্যুতের লোডশেডিং কমিয়ে বৈদ্যুতিক সেচ সচল রাখা এবং দ্রুত আমদানি নিশ্চিত করে আমন ও রবি মৌসুমের জন্য সারের পর্যাপ্ত 'সেফটি স্টক' গড়ে তোলা।

বিকল্প শক্তি: সৌরচালিত সেচ পাম্পের দ্রুত সম্প্রসারণ এবং সার কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো।


কৃষকদের জন্য বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ

ব্যয় কমাতে ও ফলন ধরে রাখতে কৃষকরা নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:


AWD পদ্ধতি: 'অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রায়িং' পদ্ধতিতে সেচ দিলে ২০-৩০% পানি ও জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব।

সুষম সার প্রয়োগ: শুধু ইউরিয়ার ওপর নির্ভর না করে ফসফরাস, পটাশ ও জৈব সারের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা।

গুটি ইউরিয়া: ধান চাষে গুটি ইউরিয়া বা ডিপ প্লেসমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করলে সারের অপচয় কমে।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৭০

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...