নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেসিক বেতন ৫০% থেকে ১০০% পর্যন্ত বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০ হাজার টাকার কম পেনশনধারীদের পেনশন হবে দ্বিগুণ।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশে নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিশ্চিতভাবেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তবে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত না হলেও অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তা প্রকাশ করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে এই বেতন কাঠামোর যাবতীয় রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা একবারে কার্যকর না করে মোট তিনটি পৃথক ধাপে ধাপে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে একই পুরোনো বেতন কাঠামোর অধীনে সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছেন। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে স্বাভাবিকভাবেই মূল্যস্ফীতি ঘটার কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।” এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আগামী ১ জুলাই (২০২৬) তারিখ থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
চূড়ান্ত হওয়া রূপরেখা অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলের পরিকল্পনায় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেসিক বেতন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের কথা বিবেচনা করে তাদের মূল বেতন শতভাগ বা দ্বিগুণ করা হতে পারে বলেও জোরালো আলোচনা চলছে।
নতুন পে-স্কেলের খসড়া সুপারিশে চাকরিজীবীদের অবসরের পরের জীবন সুরক্ষিত করতে তিন স্তরে পেনশন বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী:
১ম স্তর: যারা বর্তমানে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেনশন ১০০ শতাংশ অর্থাৎ সম্পূর্ণ দ্বিগুণ করা হবে।
২য় স্তর: যাদের মাসিক পেনশনের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের পেনশন ৭৫ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
৩য় স্তর: যারা প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন ভোগ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে প্রস্তাবিত নতুন এই বেতন কাঠামোতে কেবল মূল বেতনই বাড়ছে না, বরং এর পাশাপাশি শিক্ষা, টিফিন ও বৈশাখী ভাতার মতো অন্যান্য সামাজিক ও আর্থিক সুযোগ-সুবিধাতেও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এই প্রস্তাবের আওতায় বর্তমানে প্রচলিত বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে একলাফে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সাথে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত মাসিক টিফিন ভাতা বর্তমানের মাত্র ২০০ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বরাদ্দ থাকা মাসিক শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...