নিউজ টাইম
২২ এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ০৫:১৯

বিআইডব্লিউটিএ লোগো ও নদিতে বানিজ্য ট্রলারের দৃশ্য। গ্রাফিক্স: সংগৃহীত
বিআইডব্লিউটিএ লোগো ও নদিতে বানিজ্য ট্রলারের দৃশ্য। গ্রাফিক্স: সংগৃহীত

বিআইডব্লিউটিএ-র ব্রিজ ক্লিয়ারেন্স (NOC) ঘিরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দাপট ও দুর্নীতির চিত্র। উন্নয়নের পথে বাধা এই ‘বাণিজ্য’ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি। বিস্তারিত পড়ুন।

দেশের নদীমাতৃক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রাণভ্রমরা ‘বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ’ (বিআইডব্লিউটিএ)। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই সংস্থার ‘ব্রিজ ক্লিয়ারেন্স’ বা অনাপত্তিপত্র (NOC) প্রদান প্রক্রিয়া এখন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের পকেটে বন্দি। গত ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের অনেক স্তরে সংস্কারের ছোঁয়া লাগলেও, বিআইডব্লিউটিএ-র অন্দরমহলে অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের দাপট কমেনি বরং বেড়েছে।


‘শর্ষের ভেতর ভূত’: ধরাছোঁয়ার বাইরে রাঘববোয়ালরা

প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এ প্রকাশিত ‘এখনও সিন্ডিকেটের দাপট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। সড়ক ও জনপথ, এলজিইডি বা রেলওয়ের মতো সংস্থাগুলো যখন জনস্বার্থে সেতু নির্মাণ করতে যায়, তখন বিআইডব্লিউটিএ-র নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনৈতিক দাবি মেটাতে না পারলে ফাইল ‘রিভিউ’ বা ‘পেন্ডিং’-এর বেড়াজালে আটকে যায়।


অনৈতিক সুবিধা: অভিযোগ রয়েছে, পরিদর্শনের নামে ভ্রমণ ব্যয় ও বিলাসবহুল আতিথেয়তা আদায় করেন কর্মকর্তারা।

শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন: ঘুষের বিনিময়ে নদীর শ্রেণিবিন্যাস বদলে দিয়ে সেতুর উচ্চতা কমিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর জালিয়াতির অভিযোগও উঠেছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের নৌপথের অপমৃত্যু ঘটাবে।


আরো পড়ুন: বিদ্যুৎ সংকটে বিপন্ন জনজীবন: আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি ও গ্রাম-শহর বৈষম্যের অবসান চাই


বিলাসবহুল জীবন ও সম্পদের পাহাড়

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তার জীবনযাত্রা তাদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দামি জমি এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন—এই বিশাল অর্থের উৎস যে সাধারণ মানুষের হয়রানি আর প্রকল্পের অর্থ লুটপাট, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশাসনিক তদন্তের নির্দেশ থাকলেও উচ্চপর্যায়ের যোগসাজশের কারণে তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।


জবাবদিহিতাহীন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা

একটি ফাইল মাসের পর মাস টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরছে। কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে, যা পরোক্ষভাবে জনগণের ওপরই করের বোঝা হয়ে চেপে বসছে। এই অস্বচ্ছতা কেবল উন্নয়নকেই বাধাগ্রস্ত করছে না, বরং বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।


উত্তরণের উপায়: চাই কঠোর সংস্কার

উন্নয়নবান্ধব রাষ্ট্র গঠনে এই আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা এখন সময়ের দাবি। আমরা মনে করি, নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন:


১. পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন: এনওসি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অনলাইন করতে হবে এবং প্রতিটি ফাইলের নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা (Timeframe) বেঁধে দিতে হবে।

২. কঠোর শাস্তি: দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. নজরদারি ও অডিট: নিয়মিত বিরতিতে এনওসি প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে আনতে হবে।


দেশের নৌপথকে রক্ষা করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এই সিন্ডিকেটের বেড়াজাল ভাঙতেই হবে। অন্যথায়, নদীমাতৃক বাংলাদেশের উন্নয়ন কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

আরও সংবাদ
দেখানো হচ্ছে ১ থেকে ১২ পর্যন্ত ফলাফল
  • ...
  • ৬৭

একটি মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *

logo

প্রকাশক :

কাউসার আহমেদ অপু
যোগাযোগ করুন

অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯

ই-মেইল : info@newstime.net

আমাদের অনুসরণ করুন
২০২৪-২০২৬ নিউজ টাইম- সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Creating Document, Do not close this window...