টাকার বিনিময়ে পদ বাগানোর চেষ্টা! নরসিংদীর নজরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জালাল সরকারের বিরুদ্ধে ছেলের বিস্ফোরক লাইভ ও কোটি টাকার পদ-বাণিজ্যের অভিযোগ।
নরসিংদীর নজরপুর ইউনিয়ন বিএনপির রাজনৈতিক মানচিত্র এখন এক গভীর সংকটের মুখোমুখি সরগরম। ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘অত্যাচারী’ হিসেবে পরিচিত সাবেক আহ্বায়ক জালাল সরকারের পুনর্বাসনের গুঞ্জনে দলটির ভেতর তোলপাড় চলছে। দলের ভেতর শুদ্ধি অভিযান এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে, দলের নীতিনির্ধারকদের ‘ম্যানেজ’ করতে তিনি কোটি টাকার মিশন নিয়ে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁর এই অপতৎপরতার কর্মকাণ্ডে স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কমিটি বিলুপ্তি ও ধারাবাহিক বিতর্ক:
দলীয় নথিপত্র ও সূত্র থেকে জানা যায়—নজরপুর ইউনিয়নের আহ্বায়ক জালাল সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালে তাঁর সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছিল দল। পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গত ১ জানুয়ারি তিনি পুনরায় কমিটির দখল নেন বলে তীব্র অভিযোগ ওঠে। এরপর ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর পরবর্তী সময়ে জালাল সরকার ও তাঁর ভাই হেলাল সরকারের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনা করে গত ৫ জুন, ২০২৬ তারিখে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপি বিতর্কিত সেই আহ্বায়ক কমিটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
লাইভে এসে ছেলের বিস্ফোরক জবানবন্দি ও অনৈতিক ব্যবসার তথ্য:
কমিটি বিলুপ্তির পর জালাল সরকারের অপকর্মের সবচেয়ে বড় ও অকাট্য দলিল সামনে আসে তাঁর নিজের ঘর থেকেই। গত ২১ জুন, ২০২৬ তারিখে জালাল সরকারের আপন ছেলে জাহিদ সরকার ফেসবুক লাইভে এসে তাঁর বাবা জালাল সরকার এবং চাচা হেলাল সরকারের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং সরাসরি হত্যাকাণ্ডের (মার্ডার) সাথে জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলেন।
লাইভে তিনি আরও তথ্য দেন যে—তাঁর চাচা হেলাল সরকার নাগরিয়াকান্দি ব্রিজ সংলগ্ন বিনোদন কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে রমরমা দেহ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এর সত্যতা যাচাইয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অবৈধ রেস্টুরেন্ট সিলগালাও করেছিল। জাহিদ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন—প্রেশনের কাছে তাঁর বাবা ও চাচার এসব অপরাধের সমস্ত প্রমাণ হস্তান্তর করতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন।
নেতৃত্বে ফেরার কোটি টাকার মিশন ও তৃণমূলের শঙ্কা:
বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় জালাল সরকার তাঁর অপরাধ ঢাকতে এবং পদ বাগাতে মাঠপর্যায়ে বিপুল অর্থ ছড়াচ্ছেন বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। এলাকাবাসী ও সাধারণ নেতা-কর্মীদের শঙ্কা—অর্থের জোরে তিনি যদি পুনরায় কোনোভাবে নেতৃত্বে ফিরে আসেন, তবে নজরপুরে চাঁদাবাজির রাজত্ব ও অত্যাচারের মাত্রা পূর্বের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মতে—বিএনপি বর্তমানে যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতির কথা বলছে, জালাল সরকারের মতো বিতর্কিত চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ব্যক্তিকে পুনর্বাসন করলে দলের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ হবে। স্থানীয়দের দাবি—কোনো অবস্থাতেই যেন আর্থিক প্রলোভনে পড়ে কোনো অপরাধী, খুনি ও চাঁদাবাজকে দলে প্রশ্রয় দেওয়া না হয়।
নেতৃবৃন্দ ও অভিযুক্তের বক্তব্য:
পদ-বাণিজ্যের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে নরসিংদী সদর উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন—“দল কখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি সরকার চাঁদাবাজ সন্ত্রাসদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটুট রয়েছে। এছাড়া টাকা দিয়ে পদ ভাগিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
এদিকে, আনীত সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে নজরপুর ইউনিয়নের সাবেক আহ্বায়ক জালাল সরকার মুঠোফোনে বলেন—“এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।” নিজের ছেলের ফেসবুক লাইভের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন—“আমার ছেলেকে মাদক সেবন করিয়ে এই ফেসবুক লাইভ করানো হয়েছে। গত ৩ মাস ধরে সে আমার বাসায় নেই, আমি এ বিষয়ে কিছু জানিনা।”
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...