খুলনার কয়রার উপকূলীয় শিশুদের শৈশব এখন কাঁকড়া ধরা আর লোনা পানির জীবনসংগ্রামে বন্দি। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনা ছেড়ে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নামছে শত শত শিশু। বিস্তারিত পড়ুন।
কপোতাক্ষ ও শাকবাড়ীয়া নদীর জোয়ার-ভাটার লোনা পানির সঙ্গেই বেড়ে উঠছে খুলনার কয়রা উপজেলার শিশুরা। যে বয়সে হাতে বইখাতা থাকার কথা, সেই বয়সে অভাব আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় অনেক শিশুর হাতে এখন জাল, দড়ি আর কাঁকড়া ধরার সরঞ্জাম। সুন্দরবনঘেঁষা এই অঞ্চলে দারিদ্র্য এতটাই প্রকট যে, শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলা এখন বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
‘খাবারই জোটে না, স্কুলে যাবো কীভাবে?’
গোবরা গ্রামের দুই ভাই যুবায়ের ও সুমনের জীবনের গল্প সেই কঠিন বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। বাবা অন্য সংসার করায় অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার ভার এখন এই দুই শিশুর কাঁধে। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়লেও প্রতিদিন নদী থেকে কাঁকড়া ধরে তারা সংসার চালাচ্ছে।
একই এলাকার হাসান ও হোসেনের গল্প আরও করুণ। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরতে গিয়ে পড়াশোনাকে বিদায় জানিয়েছে তারা। তাদের সহজ স্বীকারোক্তি— "ঠিকমতো তিনবেলা খাবারই জোটে না, স্কুলে যাবো কীভাবে?"
স্বপ্নের অপমৃত্যু ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
কয়রা অঞ্চলের মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, দারিদ্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে। মাছ ধরা, রেণুপোনা সংগ্রহ থেকে শুরু করে ইটভাটার কঠোর শ্রমেও দেখা যাচ্ছে এই শিশুদের।
তরিকুল ইসলাম (মানবাধিকার ব্যুরো, কয়রা): তিনি জানান, টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা ও কার্যকর নীতিমালা ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সাইফুল ইসলাম (উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলন): জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ ছাড়া এই পুরো প্রজন্মটি অন্ধকারের দিকে তলিয়ে যাবে।
মাওলানা মিজানুর রহমান (কয়রা ইমাম পরিষদ): প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অভাব শিশুদের শিক্ষার মূলধারা থেকে ছিটকে দিচ্ছে, যা রোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
উপকূলের এই শিশুদের শৈশব আজ বইয়ের পাতায় নয়, বরং কপোতাক্ষের লোনা জলে হাড়ভাঙা খাটুনিতে হারিয়ে যাচ্ছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...