ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে ইরানের 'মিসাইল সিটি' ও ড্রোন কৌশল। তেহরানের হাতে থাকা শাহাব, সেজ্জিল ও হাইপারসনিক ফাত্তাহ ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে পাল্টা আঘাত শুরু করেছে ইরান। তেহরানের এই বিধ্বংসী আক্রমণের সক্ষমতা দেখে খোদ পশ্চিমা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরাও বিস্মিত। অত্যাধুনিক ড্রোন থেকে শুরু করে হাইপারসনিক মিসাইল—ঠিক কী কী অস্ত্র দিয়ে ইসরাইল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কাঁপন ধরাচ্ছে ইরান? এক নজরে দেখে নিন তাদের সামরিক সক্ষমতা।
১. মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যময় ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ রয়েছে ইরানের হাতে। তাদের এই ভাণ্ডারে কয়েক হাজার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল রয়েছে, যার অনেকগুলোই রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম।
২. স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার বিধ্বংসী শক্তি
স্বল্পপাল্লা (১৫০-৮০০ কিমি): জুলফাগর, কিয়াম-১ এবং শাহাব সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতার মূল ভিত্তি। ২০২০ সালে ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় এগুলো ব্যবহার করে নিজেদের নির্ভুল লক্ষ্যভেদের প্রমাণ দিয়েছিল তেহরান।
মাঝারি পাল্লা (১৫০০-২০০০ কিমি): শাহাব-৩, ইমাদ, খোররামশাহর এবং সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের (কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, আমিরাত) মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে সলিড ফুয়েলচালিত ‘সেজ্জিল’ দ্রুত মোতায়েনযোগ্য হওয়ায় এটি শত্রুপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
৩. রাডার ফাঁকি দেওয়া ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন
ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা ‘সুমার’ ক্রুজ মিসাইল মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, যা সাধারণ রাডারে ধরা পড়ে না। এছাড়া ইরানের ড্রোন কৌশল বা ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ বিশ্বজুড়ে আলোচিত। একযোগে শত শত ড্রোন পাঠিয়ে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রেখে পরে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মূল হামলা চালানো হয়।
৪. হাইপারসনিক ও নৌ-শক্তি
ইরান সম্প্রতি দাবি করেছে তাদের হাতে ‘ফাত্তাহ’ সিরিজের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত গতিতে চলে। পাশাপাশি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ-মাইন ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তারা।
৫. রহস্যময় ‘মিসাইল সিটি’
ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার, যা ‘মিসাইল সিটি’ নামে পরিচিত। মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত এই স্থাপনাগুলো শক্তিশালী বিমান হামলা থেকেও সুরক্ষিত। ফলে বড় ধরনের যুদ্ধের মধ্যেও ইরান দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...