বিআইডিএস-এর গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। বছরে ৬১ লাখ মানুষ চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে দরিদ্র হচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিস্তারিত পড়ুন।
দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে উন্নতির নানা দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগের। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি বছর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশে প্রায় ৬১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। বর্তমানে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশই মানুষকে নিজের পকেট থেকে (Out-of-Pocket) বহন করতে হচ্ছে।
গত বুধবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস-এর সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণায় উঠে এসেছে:
ব্যয়ের বোঝা: একটি পরিবারকে স্বাস্থ্য খাতে মাসে গড়ে ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা ব্যয় করতে হয়। দরিদ্র পরিবারগুলোর আয়ের প্রায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে চিকিৎসায়।
বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয়: ১৮ শতাংশ পরিবার বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য ব্যয়ের মুখে পড়ছে, যার ফলে তারা সঞ্চয় হারাচ্ছে বা ঋণগ্রস্ত হচ্ছে।
সেবা বঞ্চিতরা: যাদের চিকিৎসার প্রয়োজন, তাদের ১৫ শতাংশই প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না। গ্রামীণ এলাকায় এই বঞ্চনার হার ৬৫ শতাংশের বেশি।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, স্বাস্থ্য ব্যয়ের সিংহভাগ খরচ হয় ওষুধ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষায়:
বহির্বিভাগ: একটি পরিবারের ওষুধে ১,২৮০ টাকা এবং ডায়াগনস্টিক পরীক্ষায় ২,৮১৪ টাকা খরচ হয়।
হাসপাতালে ভর্তি: গড়ে খরচ হয় ৪২,৪৮৩ টাকা। এর মধ্যে অস্ত্রোপচারেই চলে যায় প্রায় ২৬ হাজার টাকা।
জটিল রোগ: ক্যানসার চিকিৎসায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ ব্যয় ৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়েছে। হৃদরোগে গড় ব্যয় ১ লাখ এবং কিডনি রোগে ৬৩ হাজার টাকার বেশি।
আঞ্চলিক বৈষম্য
চিকিৎসা না পাওয়ার হারে জেলাভিত্তিক বড় পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। নড়াইলে ৮১ শতাংশ এবং হবিগঞ্জে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায়নি। বিপরীতে, ফেনীতে এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ। উচ্চ ব্যয়, সচেতনতার অভাব এবং যাতায়াত সমস্যার কারণে মানুষ অনেক সময় হাতুড়ে চিকিৎসক বা ফার্মেসির ওপর নির্ভর করছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...