জুনের মধ্যে সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস বা শেয়ারবাজারসহ এনবিআর নির্ধারিত ৯টি খাতে বিনিয়োগ করে আয়করে বড় ছাড় পেতে পারেন করদাতারা। জেনে নিন এলাকাভিত্তিক ন্যূনতম কর ও রেয়াতের নিয়ম।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই ব্যক্তিগত কর পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ঘনিয়ে এসেছে। দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর রিটার্ন প্রস্তুতের সময় করদাতার আয়, ব্যয় এবং বিনিয়োগের হিসাব 'জুলাই-জুন' অর্থবছরের ভিত্তিতেই করা হয়। তাই বৈধ উপায়ে কর রেয়াত বা করছাড় সুবিধা পেতে চাইলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নির্ধারিত খাতগুলোতে আগামী ৩০ জুনের মধ্যেই বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।
যেসব খাতে বিনিয়োগ করলে মিলবে করছাড়:
রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী মূলত ৯টি নির্দিষ্ট মাধ্যমে বিনিয়োগ বা অবদান রাখলে করদাতারা এই বিশেষ কর রেয়াতের বড় সুবিধা পাবেন:
১. সঞ্চয়পত্র: মধ্যবিত্তের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম।
২. ডিপিএস (মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প): ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা (বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত) জমার ওপর করছাড় মিলবে।
৩. শেয়ারবাজার: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড কিংবা ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগ।
৪. সরকারি প্রভিডেন্ট ফান্ড: সরকারি কর্মকর্তাদের ভবিষ্য তহবিলে জমা দেওয়া চাঁদা।
৫. স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল: বেসরকারি খাতের স্বীকৃত তহবিলে কর্মকর্তা ও নিয়োগকর্তার যৌথ চাঁদা।
৬. জীবনবিমা: জীবনবিমার প্রিমিয়াম বা কিস্তির টাকা।
৭. কল্যাণ ও গোষ্ঠীবিমা তহবিল: অনুমোদিত কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠীবিমা তহবিলে দেওয়া চাঁদা।
৮. সুপার অ্যানুয়েশন ফান্ড: এই বিশেষ তহবিলে করদাতার অবদান।
৯. সরকারি সিকিউরিটিজ: সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি সিকিউরিটিজ বা বন্ড ক্রয়।
কর রেয়াতের হিসাব যেভাবে হয়:
বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিচের তিনটি সীমার মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেটিই প্রযোজ্য হবে:
করদাতার মোট আয়ের ৩ শতাংশ, অনুমোদিত খাতে মোট বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা।
বিশেষ সতর্কবার্তা: কর রেয়াতের অঙ্ক কখনোই করদাতার প্রকৃত করদায়ের (Actual Tax Liability) চেয়ে বেশি হতে পারবে না।
বিনিয়োগ বা রেয়াত যাই হোক না কেন, করদাতার ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম কর অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে:
ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন: ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা।
অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকা: ন্যূনতম কর ৪,০০০ টাকা।
সিটি কর্পোরেশনের বাইরে (জেলা/উপজেলা): ন্যূনতম কর ৩,০০০ টাকা।
ধরা যাক একজন সরকারি কর্মকর্তা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা এবং তার যাবতীয় হিসাব শেষে করের পরিমাণ দাঁড়াল মাত্র ৭০০ টাকা। কিন্তু আইন অনুযায়ী তিনি করদায়ের চেয়ে বেশি রেয়াত পাবেন না এবং যেহেতু তিনি ঢাকার বাসিন্দা, তাই তাকে ন্যূনতম ৫,০০০ টাকাই কর হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। কর বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থবছর শেষ হওয়ার শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো না করে এখনই উপযুক্ত খাত নির্বাচন করে বিনিয়োগ করলে বৈধভাবেই করের বোঝা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...