সিলেট ও মৌলভীবাজারে মাটির নিচে পড়ে আছে উন্নতমানের ইউরেনিয়াম। রূপপুরের জ্বালানি হিসেবে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারের বদলে আমদানিনির্ভরতা কেন? বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? পড়ুন বিস্তারিত।
সিলেট ও মৌলভীবাজারের মাটির নিচে অব্যবহৃতভাবে পড়ে আছে বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান খনিজ সম্পদ ইউরেনিয়াম। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে বিদেশি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এই ইউরেনিয়াম হতে পারতো তুরুপের তাস। কিন্তু অর্ধশতাব্দী আগে সন্ধান মিললেও উত্তোলনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে—এই মূল্যবান খনিজ সম্পদের সদ্ব্যবহারের ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?’
আরো পড়ুন: দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের সিলেট ও মৌলভীবাজারে প্রাপ্ত ইউরেনিয়ামের মান বিশ্বের অনেক উন্নত খনির তুলনায় ভালো।
ঘনত্ব: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার হারাগাছা ও সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে সংগৃহীত মাটিতে ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির হার ৫০০-১৩০০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন)।
বিশ্ব প্রেক্ষাপট: যেখানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের খনিতে ৩০০-১০০০ পিপিএম ঘনত্ব থাকলেই তা লাভজনক ধরা হয়, সেখানে বাংলাদেশের ইউরেনিয়াম আকরিক অনেক বেশি শক্তিশালী।
সন্ধান মেলার ইতিহাস ও বারবার থমকে যাওয়া
১. ১৯৭৫ সাল: আণবিক শক্তি কমিশনের ভূতত্ত্ববিদ ড. ইউনূসের নেতৃত্বে হারাগাছায় প্রথম ইউরেনিয়াম খনির সন্ধান মেলে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তখন কাজ এগোয়নি।
২. ১৯৮৫-৯১ সাল: পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। ১৯৯১ সালে জাপানে আকরিক পাঠানো হলে সেখানকার গবেষণাগারে উন্নতমানের ইউরেনিয়াম প্রাপ্তির বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হয়।
৩. ২০১৫ সাল: আণবিক শক্তি কমিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. একেএম ফজলে কিবরিয়া জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে এই তেজস্ক্রিয় খনিজের ঘনত্ব অনেক বেশি এবং এটি উত্তোলনে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
ইউরেনিয়াম উত্তোলনে বাধা কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদনের পর সেই বিধিনিষেধ এখন আর নেই। তবুও উদ্যোগ না নেওয়ার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক চাপ নাকি প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, তা অস্পষ্ট।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুল আলম বলেন, ইউরেনিয়াম অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমাদের দেশে এটি উত্তোলনের আধুনিক প্রযুক্তি নেই। রাশিয়া বা পশ্চিমা দেশগুলোর সহযোগিতায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে এটি উত্তোলন করা গেলে রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানি সংকট দূর হতো এবং বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যেত।
বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি আমদানির জন্য রাশিয়া বা অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ নিজস্ব খনি থেকে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করতে পারলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সাশ্রয় হতো হাজার হাজার কোটি টাকা। সরকারের উচ্চমহল থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে এখনও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...