বিসিএস ১৮ ব্যাচের সচিব পদোন্নতি ঘিরে প্রশাসনে চরম অসন্তোষ। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ৩ মাসেও কাটেনি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ক্ষোভ।
অন্তর্বর্তী সরকার ও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রের উচ্চ প্রশাসনে কি পুরোনো ‘সুবিধাভোগী বলয়’ অটুট রয়েছে? সম্প্রতি বিসিএস (প্রশাসন) ১৮ ব্যাচের চারজন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়ার পর প্রশাসনের ভেতরে নতুন করে এই প্রশ্ন ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, এই পদোন্নতিতে জ্যেষ্ঠতা ও মেধার চেয়ে বিগত সরকারের সময়ের প্রশাসনিক অবস্থান ও ‘বিশেষ বলয়ের প্রতি আস্থা’ বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
কারা পেলেন পদোন্নতি?
১৮ ব্যাচের যে চারজন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে (সমন্বয় ও সংস্কার) পদায়ন করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিগত সরকারের সময়েও নিয়মিত পদোন্নতি, গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং লাভজনক বিদেশ পোস্টিং পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অথচ একই ব্যাচের বেশ কয়েকজন যোগ্য কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে ‘বিএনপি সমর্থক’ পরিচয়ের কারণে পদোন্নতিবঞ্চিত ছিলেন।
পটপরিবর্তন ও নতুন সরকারের বাস্তবতা
পটপরিবর্তন: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ধারণা ছিল প্রশাসনে মেধা ও নিরপেক্ষতার মূল্যায়ন হবে। কিন্তু ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাই অগ্রাধিকার পেতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে।
নতুন সরকার গঠন: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। ৩ মাস অতিক্রান্ত হলেও বঞ্চিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি; বরং সুবিধাভোগী বলয়টি আগের মতোই প্রভাবশালী রয়ে গেছে।
মেধাতালিকার শীর্ষে থেকেও বঞ্চনা: ১৮ ব্যাচের মেধা তালিকায় এক নম্বরে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক অভিযোগ না থাকলেও, অতীতে ‘বিএনপি সমর্থক’ সন্দেহে তাকে দূরে রাখা হয়েছিল এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও তিনি সচিব পদে পদোন্নতিতে উপেক্ষিত হয়েছেন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন’ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরেই অস্বচ্ছ, কারণ কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কী তথ্য দেওয়া হচ্ছে তা তিনি জানতে পারেন না এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পান না।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, “প্রশাসনে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আনতে হলে পদোন্নতি ব্যবস্থাকে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। একজন কর্মকর্তার দক্ষতা, সততা ও জ্যেষ্ঠতাই হওয়া উচিত মূল বিবেচ্য। অন্যথায় প্রশাসনের মনোবল ভেঙে যাবে।”
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...