পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের ১৪তম গ্রেডের কর্মচারী রনজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে ১২ বছরে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, সুদের ব্যবসা ও শ্যালিকার জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের ১৪তম গ্রেডের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর রনজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে মাত্র ১২ বছরের চাকরিজীবনে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর বেতনের সাথে তাঁর দৃশ্যমান বিলাসী জীবন ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের কোনো মিল নেই। অসহায় ও দুর্বল মানুষদের সুদের জালে ফাঁসিয়ে নামে-বেনামে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
নামে-বেনামে যত সম্পদের পাহাড়
অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১২ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে রনজিৎ হালদার কৌশলগতভাবে বিভিন্ন জমি ও সমিতিতে টাকা খাটানো শুরু করেন:
উপজেলা সদরে জমি: চাকরিতে ঢোকার মাত্র ৭ বছরের মাথায় উপজেলা সদরের পুরাতন কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় টিনশেডসহ প্রায় ৫ শতাংশ জমি কেনেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
পেয়ারা বাগান ও বসতভিটা: নিজ গ্রামে বিধান ঘরামি নামের এক সমবায় কর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের দুই বিঘা পেয়ারা বাগান ও ১০ শতক বসতভিটা কিনে নেন।
শ্যালিকার জমি দখল: ২০২৪ সালে নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি এলাকায় সাড়ে ৪২ শতক জমি কেনেন।
অভিযোগ রয়েছে, শ্যালিকা ও ভাগ্নের নাম ব্যবহার করে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করতে এই জমির দলিল করা হয়েছে।
কোটি টাকার সুদের ব্যবসা: বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের পর তা কৌশলে ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করারও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রনজিতের শ্যালিকা শিল্পী মিস্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, “জমি কেনার সময় রনজিতের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলাম। বিনিময়ে ব্ল্যাঙ্ক চেক ও স্বর্ণালঙ্কার বন্ধক রাখতে হয়েছিল। পরে রনজিৎ কৌশলে আমার জমি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এখন উল্টো আমার স্বামীর নামে ৪০ লাখ টাকার মিথ্যা ঋণের দাবি তুলে মামলা ঠুকে দিয়েছেন।”
অন্যদিকে রনজিতের নিজের স্ত্রী পপি মিস্ত্রীও স্বামীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। তিনি জানান, আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের সুদের ফাঁদে ফেলে পরে তাদের সম্পদ ও জমি দখলে নেওয়া রনজিতের নিয়মিত নেশা। নিজের নামে লোন নিয়ে জমি কেনা হলেও রনজিৎ পরে তা নিজের নামে লিখে নিয়েছেন।
যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত রনজিৎ হালদার বলেন, “আমি সরকারি চাকরিতে আসার আগে থেকেই শেয়ার ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলাম। শেয়ার বাজার এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আমি এসব সম্পদ করেছি। আমার সব সম্পদের বৈধ কাগজপত্র আছে এবং যেকোনো তদন্তে আমি তা দেখাতে প্রস্তুত।” বর্তমানে এই কর্মচারীর আয়ের উৎস এবং আয়কর নথি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...