খুলনার কয়রায় লবণাক্ত মাটিতে তরমুজ চাষ করে ভাগ্য বদলাচ্ছেন হাজারো কৃষক। আমন পরবর্তী পতিত জমিতে এখন সবুজের বিপ্লব। কম খরচে বেশি লাভের বিস্তারিত প্রতিবেদন।
একসময় আমন ধান কাটার পর খুলনার সুন্দরবনসংলগ্ন কয়রা উপজেলার মাইলের পর মাইল জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। শুষ্ক মৌসুমে মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় চাষাবাদের সাহস পেতেন না কৃষকরা। কিন্তু সেই কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে নোনা জমিতে এখন ফুটছে ‘সবুজ সোনা’। উপকূলের বিস্তীর্ণ বিল জুড়ে এখন শুধু তরমুজ চাষের ব্যস্ততা।
সরেজমিনে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর, মহেশ্বরীপুর, আমাদীসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও মাদা তৈরি হচ্ছে, কোথাও রোপণ করা হচ্ছে বীজ। নারী-পুরুষ শ্রমিকের ব্যস্ততায় মুখর মাঠ। সেচযন্ত্রের সাহায্যে দূরের খাল থেকে পানি এনে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে তরমুজের খেতে। নোনা মাটিতে এই কর্মযজ্ঞ যেন উপকূলীয় জীবন বদলের নতুন আখ্যান।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, ধান চাষে ৫ মাস সময় লাগলেও বিঘাপ্রতি লাভ থাকে মাত্র ৮–৯ হাজার টাকা। অন্যদিকে, তরমুজ আড়াই মাসেই ঘরে তোলা যায়। বিঘাপ্রতি ২০–২৫ হাজার টাকা খরচ করে অনায়াসেই ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। আমাদী গ্রামের কৃষক আবিয়ার গাজী এবার ৩০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন গত বছরের সফলতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে।
তরমুজ চাষ শুধু কৃষকের মুখে হাসি ফোটায়নি, তৈরি করেছে নারীদের কর্মসংস্থানও। হরিনগর বিলের শ্রমিক মিনাক্ষি মণ্ডল জানান, ঘরের কাজের পাশাপাশি প্রতিদিন ৪০০ টাকা মজুরিতে খেতে কাজ করে এই মৌসুমে তারা বেশ ভালো আয় করছেন।
উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৪ হাজার ২০০ হেক্টরের রেকর্ড ভেঙে চলতি বছর আবাদের পরিমাণ আরও বেড়েছে। এমনকি যেসব জমিতে আগে বছরে মাত্র একটি ফসল হতো, সেখানেও এবার তরমুজ চাষ হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গুরু দাশ মণ্ডল বলেন, “গত তিন বছরে লবণসহিষ্ণু তরমুজ চাষ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। কম বিনিয়োগে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।”
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উপকূলের এই নোনা মাটিতে তরমুজ চাষ এখন কেবল ফসল নয়, বরং এক নতুন সম্ভাবনার নাম। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার কয়রা থেকে কোটি কোটি টাকার তরমুজ সারাদেশে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...