লিওনেল মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ এক নজরে। ৪৬টি ট্রফি, ৮টি ব্যালন ডি’অর এবং বিশ্বকাপ জয়ের সব ইতিহাস ও রেকর্ড জানুন।
ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য কিংবদন্তির আবির্ভাব ঘটেছে। তবে লিওনেল মেসির মতো দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য, রেকর্ড ও ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পেরেছেন খুব কম খেলোয়াড়ই। বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ঘরোয়া লিগ কিংবা ব্যালন ডি’অর—সব বড় মঞ্চেই নিজের নাম খোদাই করেছেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেসির ক্যারিয়ারে যুক্ত হয়েছে রেকর্ড ৪৬টি দলীয় ট্রফি।
মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল ও স্মরণীয় অধ্যায় কেটেছে স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনায়। ২০০৪ সালে মূল দলে অভিষেকের পর ২০২১ সালে ক্লাব ছাড়ার আগে পর্যন্ত ৭৭৮ ম্যাচে তিনি অবিশ্বাস্য ৬৭২টি গোল করেন। বার্সার হয়ে তিনি রেকর্ড ৩৫টি ট্রফি জেতেন:
১০টি লা লিগা ও ৪টি চ্যাম্পিয়নস লিগ
৭টি কোপা দেল রে ও ৮টি স্প্যানিশ সুপার কাপ
৩টি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ও ৩টি ক্লাব বিশ্বকাপ
এছাড়া ২০০৮-০৯ এবং ২০১৪-১৫ মৌসুমে বার্সেলোনাকে ঐতিহাসিক 'ট্রেবল' এবং ২০০৯ সালে ছয়টি শিরোপা জেতাতেও মুখ্য ভূমিকা রাখেন তিনি।
আরও পড়ুন: টেকনো বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন ফুটবল তারকা হামজা চৌধুরী
বার্সেলোনা ছাড়ার পর ২০২১ সালে মেসি ফ্রান্সের পিএসজিতে যোগ দিয়ে দুটি লিগ ওয়ান শিরোপা ও একটি ট্রফি দেস চ্যাম্পিয়নস জেতেন। ২০২৩ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে পাড়ি জমান।
ইন্টার মায়ামিতে যোগ দিয়েই ২০২৩ সালে ক্লাবকে তাদের ইতিহাসের প্রথম বড় শিরোপা 'লিগস কাপ' এনে দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সাপোর্টার্স শিল্ড এবং ২০২৫ সালে ইস্টার্ন কনফারেন্স ও এমএলএস কাপে দলকে চ্যাম্পিয়ন করান। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি টানা দুই বছর (২০২৪ ও ২০২৫) এমএলএস-এর মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (MVP) নির্বাচিত হন এবং ২০২৫ সালে ২৯ গোল করে গোল্ডেন বুটও জেতেন।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির যাত্রা ছিল চরম নাটকে ভরা। ২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হেরে একপর্যায়ে অবসর নিলেও আবার ফিরে আসেন তিনি।
এরপরই শুরু হয় আর্জেন্টিনার ট্রফির বরপুত্র হওয়ার গল্প:
২০২১ ও ২০২৪ সালে দুটি কোপা আমেরিকা জয়।
২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে শিরোপা জয়।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের সেরা স্বপ্ন পূরণ। টুর্নামেন্টে ৭ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বল।
বয়সভিত্তিক পর্যায়েও তিনি ২০০৫ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন।
মেসির ব্যক্তিগত ঝুলিতে রয়েছে একক সর্বোচ্চ ৮টি ব্যালন ডি’অর। এছাড়া তিনি ৩ বার 'দ্য বেস্ট ফিফা ম্যান্স প্লেয়ার', ৩ বার 'উয়েফা ম্যান্স প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার', ৬ বার ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট এবং ৮ বার লা লিগার পিচিচি ট্রফি জিতেছেন।
২০১২ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ ৯১ গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ডও তার দখলে। লা লিগায় ৪৭৪ গোল এবং ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগ মিলিয়ে ৪৯৬ গোল করে সর্বকালের সেরা গোলদাতা তিনি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি সর্বমোট ৩৪টি ম্যাচ খেলে রেকর্ড গড়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হারলেও, ৩৯ বছর বয়সে ফাইনালে মাঠে নেমে নতুন এক ইতিহাস গড়েন মেসি।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...