আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে 'তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার' শিরোনামে ৩৬ দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে ৩৬ দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইশতেহার তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ। দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এই ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
এনসিপির ৩৬ দফা ইশতেহার:
১. জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: জুলাই সনদের যে দফাগুলো আইন ও আদেশের ওপর নির্ভরশীল, তা বাস্তবায়নের সময়সীমা ও দায়বদ্ধ কাঠামো তৈরিতে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে।
২. গণহত্যার বিচার: জুলাই গণহত্যা, শাপলা চত্বর গণহত্যা, বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও গুমসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করা হবে।
৩. সংখ্যালঘু সুরক্ষা: ধর্মবিদ্বেষ ও সংখ্যালঘু নিপীড়ন রোধে মানবাধিকার কমিশনে স্বাধীন তদন্তের এখতিয়ারসম্পন্ন একটি বিশেষ সেল গঠন করা হবে।
৪. সম্পদের হিসাব: মন্ত্রী, এমপি ও সরকারি কর্মকর্তাদের বাৎসরিক সম্পদের হিসাব ‘হিসাব দাও’ পোর্টালে প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হবে।
৫. আমলাতন্ত্র ও ইমামদের সম্মান: আমলাতন্ত্রে মেধাভিত্তিক পদোন্নতি এবং পে-স্কেলে ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে।
৬. স্মার্ট এনআইডি: সব ধরনের নাগরিক সেবা প্রাপ্তির জন্য শুধুমাত্র এনআইডি কার্ড ব্যবহার করা হবে।
৭. ন্যূনতম মজুরি: জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং বাধ্যতামূলক পেনশন স্কিম চালু করা হবে।
৮. টিসিবির আধুনিকায়ন: ট্রাকে লাইনে দাঁড়িয়ে নয়, নিবন্ধিত মুদি দোকান থেকে টিসিবির পণ্য সংগ্রহ করা যাবে।
৯. সামাজিক আবাসন: সুনির্দিষ্ট বাড়িভাড়া কাঠামো তৈরি এবং ‘ওয়াকফ সুকুক’ ভিত্তিতে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।
১০. কর সংস্কার: গরিবের কর কমিয়ে ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়া এবং কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
১১. ঋণখেলাপি দমন: ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত ও তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রত্যাহার করা হবে।
১২. চাঁদাবাজি বন্ধ: ব্যবসার রাজনৈতিক ব্যয় কমাতে চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ বন্ধে ৯৯৯-এর মতো হটলাইন ও জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হবে।
১৩. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: মুদ্রাস্ফীতি ৬ শতাংশে নামানো এবং স্কুলভিত্তিক আর্থিক শিক্ষা চালু করা হবে।
১৪. ভোটাধিকারের বয়স: ভোটাধিকারের বয়স কমিয়ে ১৬ বছর করা হবে এবং তরুণদের জন্য ‘Youth Civic Council’ গঠন করা হবে।
১৫. কর্মসংস্থান: আগামী ৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান এবং নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হবে।
১৬. প্রবাসী শ্রমিক: বছরে ১৫ লাখ নিরাপদ ও দক্ষ প্রবাসী কর্মী গড়ে তোলা হবে।
১৭. শিক্ষা সংস্কার: ৭৫ শতাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ এবং শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো করা হবে।
১৮. ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক: স্নাতক পর্যায়ে ৬ মাসের পূর্ণকালীন ইন্টার্নশিপ বা থিসিস বাধ্যতামূলক করা হবে।
১৯. গবেষণায় বরাদ্দ: প্রবাসী গবেষকদের দেশে ফেরাতে বিশেষ ফান্ডিং এবং ন্যাশনাল কম্পিউটিং সার্ভার তৈরি করা হবে।
২০. বিশেষায়িত স্বাস্থ্য জোন: উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে ক্যান্সার ও হৃদরোগসহ জটিল রোগের বিশেষায়িত স্বাস্থ্য জোন গড়ে তোলা হবে।
২১. জরুরি চিকিৎসা: জেলা হাসপাতালে আইসিইউ-সিসিইউ নিশ্চিতকরণ এবং জিপিএস-ট্র্যাকড জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স সিস্টেম চালু করা হবে।
২২. ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড: প্রত্যেক নাগরিকের জন্য ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড এবং ন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স চালু করা হবে।
২৩. নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: জাতীয় সংসদের নিম্নকক্ষে ১০০টি সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে।
২৪. মাতৃত্বকালীন ছুটি: পূর্ণ বেতনে ৬ মাস মাতৃত্বকালীন এবং ১ মাস পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা হবে।
২৫. নারী স্বাস্থ্যসামগ্রী: উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্কুল ও কলেজে বিনামূল্যে স্যানিটারি সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
২৬. ডায়াস্পোরা পোর্টাল: প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবায় অনলাইন ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা হবে।
২৭. রেমিট্যান্স সুবিধা: রেমিট্যান্সের বিপরীতে পেনশন সুবিধা এবং বিমানে ‘RemitMiles’ বা ট্রাভেল মাইলস প্রদান করা হবে।
২৮. প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষা: প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
২৯. গণপরিবহন: ঢাকা ও চট্টগ্রামে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
৩০. সবুজ প্রযুক্তি: ৫ বছরে ২৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরকারি ক্রয়ে ইলেকট্রিক যানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
৩১. শিল্প দূষণ রোধ: সব কারখানায় ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা এবং নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে।
৩২. কৃষিতে ভর্তুকি: কৃষকের কাছে সরাসরি ক্যাশব্যাকের মাধ্যমে সার, বীজ ও যন্ত্রে ভর্তুকি পৌঁছানো হবে।
৩৩. খাদ্য সার্বভৌমত্ব: দেশীয় বীজের গবেষণা বাড়িয়ে খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত ও ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
৩৪. পররাষ্ট্রনীতি: সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার পাশাপাশি শেখ হাসিনাসহ অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হবে।
৩৫. রোহিঙ্গা সংকট: দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধান ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন।
৩৬. প্রতিরক্ষা সংস্কার: সেনাবাহিনীর জন্য ইউএভি (ড্রোন) ব্রিগেড এবং রেগুলার ফোর্সের দ্বিগুণ বড় রিজার্ভ ফোর্স তৈরি করা হবে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...