রংপুর নগরীর ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী কেডিখাল এখন ময়লার ভাগাড়। পয়ঃবর্জ্য ও দখলের কারণে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে বেড়েছে জনদুর্ভোগ। দ্রুত সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের।
রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রধান কারিগর ঐতিহ্যবাহী ‘কেডিখাল’ এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো এই খালটি বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বহুতল ভবনের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন এবং মেডিকেল ও কেমিক্যাল বর্জ্য সরাসরি খালে মিশে পানি কুচকুচে কালো আকার ধারণ করেছে। সংস্কারের অভাবে পাড় দখল আর ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষায় এটি আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৎকালীন পৌর প্রশাসক কৃষ্ণধন ঘোষ (কেডি ঘোষ) প্রায় দেড়শ বছর আগে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি খনন করেছিলেন। নগরীর চিকলি বিল থেকে শুরু হয়ে খাসবাগ ও সাতমাথা হয়ে এটি শ্যামাসুন্দরী খালের সাথে মিশেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২২ সালে কোটি টাকা ব্যয়ে একবার খনন করা হলেও পাড়ে রাখা মাটি বৃষ্টিতে ধুয়ে পুনরায় খাল ভরাট হয়ে যায়। এরপর আর কোনো কার্যকর সংস্কার পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে উৎকট দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় বসবাস করা দায় হয়ে পড়েছে। খালপাড়ে বেড়েছে মশার উপদ্রব, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।
আমেনা বেগম (স্থানীয় বাসিন্দা): তিনি জানান, খালের পাড়ে থাকাই এখন কষ্টকর। আশপাশের বাড়ির পায়খানার লাইনের ময়লা সরাসরি খালে পড়ছে।
মোকছেদ আলী: তার মতে, শ্যামাসুন্দরী খাল নিয়ে আলোচনা হলেও কেডিখাল অবহেলিত। দ্রুত সংস্কার না করলে শহরের বড় অংশ জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে।
রংপুর মহানগর সুজনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বলেন, নতুন সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় এই ঐতিহ্যবাহী খালটি প্রাণ ফিরে পাবে বলে আমরা আশাবাদী। অন্যদিকে, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন জানিয়েছেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই খাল সংস্কারে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা করছেন। নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে দ্রুতই কেডিখালের প্রাণ ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...