চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছরের শিশু ধর্ষণের মামলায় নজিরবিহীন দ্রুততায় মাত্র ২৬ দিনের মাথায় আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে পাশবিক ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নজিরবিহীন দ্রুততার সাথে রায় ঘোষণা করেছে আদালত। ঘটনা ঘটার মাত্র ২৬ দিনের মাথায় মূল অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মনির হোসেন আদালতের কাঠগড়ায় সশরীরে উপস্থিত ছিল।
আরও পড়ুন: শিশু আয়াতকে কেটে টুকরো করার লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামি আবীরের ফাঁসির রায়
আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মাত্র তিন কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি শুনে আদালত এই যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন। সমাজে এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে এটি একটি অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দেবে।”
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার নূর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি ডেকোরেটরের গুদামকক্ষে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে সেখানে কর্মরত ডেকোরেটর কর্মচারী মনির হোসেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযুক্তকে আটক করতে গেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিয়ে মনিরের ‘অনস্পট শাস্তি’ দাবি করে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সাংবাদিকসহ প্রায় ৪০ জন আহত হন। সেদিনই রক্তাক্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয় এবং শিশুর বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারের পর ২২ মে আসামি মনির মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এরপর বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় গত ৪ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনাল গত ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ১০ জুন থেকে মাত্র ৩ দিনে ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে আজ এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করে। দণ্ডপ্রাপ্ত মনিরের স্থায়ী বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...