মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৩য় পর্যায়ের স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের অর্থ পাচার রোধ ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশে যারা নতুন করে অশান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে তীব্র সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তবে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না এবং বাংলাদেশের অর্জিত গণতন্ত্রকেও কেউ নষ্ট করতে পারবে না।
আজ বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল ল্যাপটপের বোতাম চেপে দেশব্যাপী নারীদের জন্য তৃতীয় দফার ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এর পাশাপাশি তিনি শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক সুবিধাদি, গৃহ নির্মাণের বিশেষ অনুদান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা এবং অবহেলিত শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তির চেক সশরীরে তুলে দেন।
‘অস্থিরতা তৈরি হলে থমকে যাবে সামাজিক সুরক্ষা’:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও শিক্ষা খাতে বিশেষ বরাদ্দসহ বহুমুখী কল্যাণমুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং মাত্র চার মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই তা মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করে চলেছে।” তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, দেশে যদি কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করা হয় তবে এই সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমগুলো অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না। এর পাশাপাশি দেশের জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ বিদেশে পাচার রোধে সম্পূর্ণ জিরো টলারেন্স বা কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে যেভাবে দেশের অর্থ নির্বিচারে বিদেশে পাচার হয়েছে ভবিষ্যতে তা আর কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না এবং সেই উদ্ধারকৃত অর্থ এদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শতভাগ কাজে লাগানো হবে।
বাজেটকে গণবিরোধী আখ্যা দেওয়ায় সমালোচনা:
চলতি অর্থবছরের বাজেটকে একটি বিশেষ মহলের ‘গণবিরোধী’ আখ্যা দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের জনবান্ধব বাজেটে মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, শিক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এমন একটি কল্যাণমুখী বাজেটকে যারা ঢালাওভাবে জনবিরোধী বলছেন তারা আসলে কোনোদিনই এদেশের সাধারণ মানুষের প্রকৃত বন্ধু হতে পারেন না।
বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলের ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের ফান্ডের উৎস সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় এবং পাচার বন্ধ করতে পারলে এই বিশাল মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সরকারের কোনো অর্থের সংকট হবে না। অতীতে কোনো সরকার চা শ্রমিকদের গৃহনির্মাণ অনুদান বা শিক্ষার্থীদের এভাবে পাশে দাঁড়ায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যতবারই দেশে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে ততবারই দেশের আপামর জনগণ ধানের শীষকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। এর মূল কারণ বিএনপি সব সময় জনগণের কাতারে থেকে রাজনীতি করেছে। অনেকে ক্ষমতা হারিয়ে সংকটের সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো বাংলাদেশের মানুষকে একা রেখে কোথাও যাননি।
উন্নয়ন পরিকল্পনার রোডম্যাপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ পরিবারের কাছে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ প্রান্তিক কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার সকল সরকারি হাসপাতালকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ৫০ জন নারী চা শ্রমিককে গৃহনির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা করে অনুদানের চেক, ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তার আর্থিক অনুদান নিজ হাতে হস্তান্তর করেন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...