যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে (Kharg Island) সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেলকেন্দ্র খার্গ দ্বীপে (Kharg Island) সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে ইরান। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, দ্বীপটিতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলে মাইন ও শক্তিশালী বিস্ফোরক ফাঁদ বসানো হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর তথ্যমতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপটি দখলের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে।
লক্ষ্য: হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
তেল রপ্তানি: উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়।
আরো পড়ুন: ইরান যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫-দফা পরিকল্পনা নিয়ে আলজাজিরার বিশ্লেষণ
সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, আয়তনে ছোট হলেও খার্গ দ্বীপ এখন একটি দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা: ইরান সেখানে নতুন করে ‘ম্যানপ্যাডস’ (কাঁধ থেকে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র) মোতায়েন করেছে, যা নিচ দিয়ে উড়া মার্কিন হেলিকপ্টার ও ড্রোনের জন্য বড় হুমকি।
স্থল মাইন: উপকূলীয় এলাকায় সাঁজোয়া যান ধ্বংসে সক্ষম ল্যান্ডমাইন পাতা হয়েছে। মার্কিন বাহিনী অবতরণের চেষ্টা করলে ভয়াবহ প্রতিরোধের মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই অভিযান নিয়ে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
প্রাণহানির আশঙ্কা: ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের মতে, দ্বীপ দখলের চেষ্টা করলে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক মার্কিন প্রাণহানি ঘটতে পারে।
সর্বোচ্চ প্রতিরোধ: ন্যাটোর সাবেক কমান্ডার জেমস স্টাভরিডিস সতর্ক করেছেন যে, ইরান তার ভূখণ্ড রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করবে।
আঞ্চলিক প্রভাব: উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি স্থল অভিযানে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে গোটা অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের কোনো দ্বীপ দখলের চেষ্টা হলে শুধু আক্রমণকারী দেশ নয়, তাদের সহযোগী দেশগুলোর ওপরও পাল্টা হামলা চালানো হবে।
বর্তমানে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) উপগ্রহ ও ড্রোনের মাধ্যমে দ্বীপটির ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ‘মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, স্থল অভিযানের বদলে নৌ-অবরোধের মাধ্যমেই ইরানকে চাপে রাখার কৌশল নিতে পারে ওয়াশিংটন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...