ক্ষমতাসীন বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নতুন ‘বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। খসড়া তৈরিতে গঠিত ১৬ সদস্যের কমিটির বিস্তারিত জানুন।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য বিদ্যমান ‘সরকারি চাকরি আইন’ বহাল থাকা সত্ত্বেও নতুন করে 'বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস আইন' প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই আইনের খসড়া তৈরির জন্য সম্প্রতি ১৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নতুন এই আইনটি কি শুধু বিসিএস (ক্যাডার) কর্মকর্তাদের জন্য হবে, নাকি সব সরকারি কর্মচারীকে এর আওতায় আনা হবে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
কমিটির কাঠামো ও সময়সীমা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে এই খসড়া কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও খসড়া জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
কমিটির দায়িত্ব: সরকারি চাকরি-সংক্রান্ত সব বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে সংবিধানের আলোকে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা।
সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি: কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (BPATC), এবং বিসিএস প্রশাসন একাডেমির যুগ্মসচিব ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরি আইন থাকার পরও নতুন আইন করলে কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, সেটি কমিটিকে গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “পূর্ণাঙ্গ খসড়া না দেখে এটি কী ধরনের আইন হতে যাচ্ছে তা বলা মুশকিল। তবে এ ধরনের আইন করার আগে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে আন্তঃক্যাডার (যেমন: প্রশাসন বনাম অন্যান্য ক্যাডার) এবং ক্যাডার-ননক্যাডার দ্বন্দ্ব না বাড়ে এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় না থাকে।”
আরেকজন সাবেক সচিব উল্লেখ করেন, অনেক উন্নত দেশেই এমন ডেডিকেটেড সিভিল সার্ভিস আইন রয়েছে। এটি বাস্তবায়নে বিদ্যমান সরকারি চাকরি আইনে বড় ধরনের সংযোজন-বিয়োজনের প্রয়োজন হতে পারে।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি
চলতি ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সংস্কার আনা হচ্ছে। দলের ইশতেহারে বলা হয়েছিল— দক্ষ, মেধাবী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে সংবিধানের আলোকে একটি উপযুক্ত ‘সিভিল সার্ভিস আইন’ প্রণয়ন করা হবে। মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং প্রশাসনের সব পর্যায়ে ই-গভর্ন্যান্স চালু করার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ ছিল।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...