পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পেছনে ৫টি মূল কারণ উঠে এসেছে। নারী ভোটের ধস, দুর্নীতি, আর জি কর ইস্যুসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে পড়ুন বিস্তারিত প্রতিবেদন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৬৭ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে মাত্র ৫৯টি আসনে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা ব্যানার্জী আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই পরাজয় স্বীকার করেননি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আসন লুটের অভিযোগ এনেছেন।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের মতে, ১৫ বছর একটানা ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূলের এই নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে মূলত পাঁচটি বড় কারণ কাজ করেছে।
১. নারী ভোটব্যাংকে ধস
অতীতে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ ও ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প নারী ভোটারদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নারী সুরক্ষার অভাব এবং আরজি কর হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ন্যায় মর্মান্তিক ঘটনায় নারী ভোটারদের বড় একটি অংশ মুখ ফিরিয়ে নেয়। পানিহাটির মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতেও নির্যাতিতার মা বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়া এর বড় প্রমাণ।
২. এসআইআর (ভোটার তালিকা সংশোধন)-এর প্রভাব
নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) ফলে প্রায় ৯০ লাখ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে। এর ফলে একদিকে যেমন কিছু বৈধ ভোটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অন্যদিকে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সুবিধা নেওয়া অনেক ভুয়া ও মৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ার কারণে বিজেপি লাভবান হয়েছে।
৩. দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাব
১৫ বছরের শাসনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট রাজ, কাটমানি ও নিয়োগ দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থতা এবং হতাশাকে নির্বাচনের ঠিক আগে দেওয়া ভাতার মাধ্যমে চাপা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
৪. হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণ
অতীতে মুসলিম ভোটারদের প্রায় একচেটিয়া সমর্থন পেলেও, এবার তার বিপরীতে হিন্দু ভোটের বড় ধরনের মেরুকরণ (কনসলিডেশন) দেখা গেছে। মমতা সরকারের বিরুদ্ধে ‘মুসলিম তোষণের’ অভিযোগ এবং সরকারের ‘সফট হিন্দুত্ব’ নীতি এই মেরুকরণ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে।
৫. শাসক দলের বাড়তি সুবিধা না পাওয়া
নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ ও রাজ্যজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক (২ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি) কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতির কারণে তৃণমূল কংগ্রেস অতীতের মতো কোনো বাড়তি প্রশাসনিক সুবিধা পায়নি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে এবার মানুষ নিশ্চিন্তে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পেরেছেন, যা তৃণমূলের বিপক্ষে গেছে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...