ওমানের দোফার প্রদেশে হঠাৎ ভেসে এল লাখ মৃত লাল চিংড়ি। সমুদ্রের তলদেশে অক্সিজেন সংকট ও তাপমাত্রার পরিবর্তনে এই গণ-মৃত্যু বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিস্তারিত পড়ুন।
ওমানের দোফার প্রদেশের মিরবাত শহরের সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ লাল রঙের মৃত চিংড়ি ভেসে আসার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বালুর ওপর স্তূপ হয়ে থাকা এই ক্ষুদ্র প্রাণীদের দেখে মনে হচ্ছে পুরো সৈকতে কেউ যেন লাল গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। তবে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় এসব প্রাণী কুড়িয়ে খেতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কঠোরভাবে নিষেধ করেছে ওমানের কৃষি, মৎস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ
ঘটনার খবর পেয়েই ওমানের কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চালায়। প্রাথমিক গবেষণার পর তারা নিশ্চিত করেছেন যে, পানিতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক বা বিষক্রিয়ার অস্তিত্ব নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কোনো মানবসৃষ্ট দূষণ নয়, বরং সমুদ্রের তলদেশে ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক পরিবর্তনের একটি বহিঃপ্রকাশ।
সামুদ্রিক এই বিপর্যয়ের পেছনে বিশেষজ্ঞরা তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
১. অক্সিজেন সংকট: সমুদ্রের গভীর তলদেশে হঠাৎ অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় এই সংবেদনশীল প্রাণীদের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
২. তাপমাত্রার তারতম্য: পানির তাপমাত্রার আকস্মিক ওঠানামা এই ক্ষুদ্র প্রাণীদের জীবনধারণের জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে।
৩. সামুদ্রিক স্রোত: প্রতিকূল পরিবেশে দুর্বল হয়ে পড়া এই চিংড়িগুলো শক্তিশালী সামুদ্রিক স্রোতের ধাক্কায় অগভীর জলে চলে আসে এবং সৈকতে আছড়ে পড়ে মারা যায়।
সৈকতে ভেসে আসা এই লাল চিংড়িগুলো মূলত ক্রিল প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। বিজ্ঞানীরা এদের বৈজ্ঞানিক নাম দিয়েছেন Challengerosergia umitakae। পরিবেশের সামান্য রদবদলেই এরা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে বিজ্ঞানীদের কাছে এরা ‘সাগরের নির্দেশক প্রাণী’ হিসেবে পরিচিত। উল্লেখ্য, ওমান ও ইয়েমেনের উপকূলে প্রতি এক থেকে তিন বছর অন্তর এমন দৃশ্য দেখা যায়।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...