গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ। ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম এই স্থপতির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দুই পক্ষই। বিস্তারিত পড়ুন।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান ও ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ। শনিবার (১৬ মে) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং হামাস—উভয় পক্ষই যৌথভাবে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে শুরু হওয়া অভিযানের ধারাবাহিকতায় এটি তেল আবিবের জন্য বড় একটি সামরিক অগ্রগতি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা ‘শিন বেট’ (আইএসএ) এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, শুক্রবার গাজা সিটি এলাকায় একটি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই হামলা চালানো হয়।
হামাসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছেন, গাজা সিটিতে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট এবং একটি বেসামরিক যানবাহনকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলায় ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদ তার স্ত্রী ও এক কন্যাসহ নিহত হন। এএফপির ছবিতে শোকাহত মানুষদের হামাসের পতাকায় মোড়ানো হাদ্দাদের মরদেহ ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আনতে দেখা গেছে।
আইডিএফ-এর দাবি, হাদ্দাদ ছিলেন হামাসের সামরিক শাখার সর্বশেষ শীর্ষ কমান্ডারদের একজন, যিনি সরাসরি ৭ অক্টোবরের হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের বন্দিদশা ব্যবস্থাটি পরিচালনা করতেন। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি জিম্মিদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের ঘিরে রাখতেন বলেও অভিযোগ করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইয়াল জামির এই হত্যাকাণ্ডকে একটি “গুরুত্বপূর্ণ অভিযানিক সাফল্য” হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “ফিরে আসা জিম্মিদের কাছ থেকে বারবার হাদ্দাদের নাম শোনা গেছে। ৭ই অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।”
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল একে একে হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে। এর আগে ৭ অক্টোবরের মূল পরিকল্পনাকারী ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং হামাসের সশস্ত্র শাখার দীর্ঘদিনের কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এছাড়া লেবাননে হিজবুল্লাহর সাবেক প্রধান হাসান নাসরাল্লাহসহ হামাস-হিজবুল্লাহর একাধিক শীর্ষ কমান্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
যুদ্ধের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতি
৭ অক্টোবরের হামলা: হামাসের সেই হামলায় ইসরায়েলি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১,২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়।
গাজায় নিহতের সংখ্যা: হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক অভিযানে এ পর্যন্ত ৭২,৭০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি ও বর্তমান পরিস্থিতি: অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা থামেনি। উভয় পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করছে। নতুন করে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকেই অন্তত ৮৫৬ জন ফিলিস্তিনি এবং ৫ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
সোর্স: এনডিটিভি
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...