শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ভয়াবহ হামলা রাশিয়ার। এক রাতে ৪০০ ড্রোন ও ২৯টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল মস্কো। জেলেনস্কির দাবি, পরিকল্পিতভাবে জ্বালানি খাত ধ্বংসের চেষ্টা চলছে।
একদিকে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার খবর মিলছে, ঠিক তখনই ইউক্রেনের ওপর ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ আকাশ হামলা চালাল রাশিয়া। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতভর ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে প্রায় ৪০০টি ড্রোন এবং ২৯টি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রুশ বাহিনী।
ইউক্রেনীয় সংবাদ সংস্থা ইউক্রিনফর্ম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৬৭টি ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সব হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। অন্তত ৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৮টি ড্রোন ইউক্রেনের ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।
হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনের মধ্যে ইরানের তৈরি শাহেদ ছাড়াও গেরবেরা ও ইতালমাস মডেলের ইউএভি শনাক্ত করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘সমন্বিত আক্রমণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে আমাদের জ্বালানি খাত ধ্বংস করার জন্যই এই হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা ছাড়া কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সফল হবে না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হামলার সময় জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধিদল যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর আগে আবুধাবিতেও ত্রিদেশীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২৮ দফা শান্তি পরিকল্পনায় ইউক্রেনের ক্রিমিয়া, লুহান্সক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলকে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতির প্রস্তাব রয়েছে। রাশিয়ার শর্ত অনুযায়ী, দনবাস থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেই কেবল তারা যুদ্ধ বন্ধে রাজি। তবে বর্তমান হামলা পরিস্থিতি বলছে, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই পুতিন এই বড় ধরনের হামলা চালিয়েছেন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...