ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ৭ মেগা প্রকল্পে ৪৬,৭০০ কোটি টাকার দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করেছে দুদক। রূপপুর, পদ্মা সেতু, শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল ও মেট্রোরেল (লাইন-৬) অডিট আপত্তির পাহাড়।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বাস্তবায়নাধীন দেশের সাতটি বড় মেগা প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু এবং মেট্রোরেলসহ এই সাতটি প্রকল্পে অনিয়ম ও লুটপাটের শিকার হয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। বিদেশি পণ্যের নামে নিম্নমানের সামগ্রী সরবরাহ, নকশা পরিবর্তন করে ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে এসব প্রকল্পে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সম্প্রতি এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, "আওয়ামী লীগ আমলের সব মেগা প্রকল্পই দুর্নীতি আর ভুলে ভরা ছিল।" তিনি জানান, এখন থেকে এসব প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি বিভাগকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: এই প্রকল্পে অনিয়মের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১০৬টি অডিট আপত্তি উঠেছে, যাতে জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত একটি আপত্তিও নিষ্পত্তি করা হয়নি।
মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র: ১১ বছরে এই প্রকল্পে ৮৭টি অডিট আপত্তি দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩১টির জবাব মিললেও কোনোটি নিষ্পত্তি হয়নি। এখানে ৬ হাজার ৫৭১ কোটি টাকার ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই।
মেট্রোরেল (লাইন-৬): প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় এই প্রকল্পের খরচ বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। বর্তমানে ৮ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার অনিয়ম নিয়ে ৬৩টি অডিট আপত্তি ঝুলে আছে।
পদ্মা সেতু: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ব্যয় কয়েক দফায় বাড়িয়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যয় বেড়েছে ২২১ শতাংশ। এখনও এই প্রকল্পের ৬৮টি অডিট আপত্তি অনিষ্পন্ন।
শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল: এখানে ৪ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনা এবং নকশা পরিবর্তনের নামে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।
অন্যান্য: দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইনে ৩ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা এবং পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরে ১০৩ কোটি টাকার অডিট আপত্তি পাওয়া গেছে।
বিদ্যুৎ ও পরিকল্পনা বিভাগের মতে, বিপুলসংখ্যক অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি না হওয়া ক্রয় প্রক্রিয়ায় চরম অদক্ষতা ও দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...