র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করল গুম সংক্রান্ত কমিশন! আয়নাঘরকে জাদুঘর বানানো এবং গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সেনা কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের প্রস্তাব। ১৫ বছরের গুমের লোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ
বিগত ১৫ বছরে সংঘটিত বলপূর্বক গুমের ঘটনা অনুসন্ধানে গঠিত কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আমূল সংস্কারসহ বেশ কিছু বৈপ্লবিক সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন কমিশন প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে কমিশন প্রধান জানান, গুমের সংস্কৃতি বন্ধ করতে নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় পরিবর্তন প্রয়োজন। কমিশনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলো:
র্যাব বিলুপ্তকরণ: গুমের ঘটনায় ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রে র্যাবের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় বাহিনীটি বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সেনা প্রত্যাহার: বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে তাঁদের পেশাদারিত্বে ফিরিয়ে নেওয়া।
আয়নাঘরকে জাদুঘর করা: ডিজিএফআই ও র্যাবের গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’গুলোকে নির্যাতনের স্মৃতি হিসেবে জাদুঘরে রূপান্তর করা।
কালো আইন বাতিল: সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল বা সংশোধন করা।
কমিশন অনুসন্ধানে মোট ৪০টি গোপন ডিটেনশন সেন্টার বা বন্দিশালার সন্ধান পেয়েছে, যার মধ্যে ২২ থেকে ২৩টিই ছিল র্যাবের। কমিশন প্রধান অভিযোগ করেন, কমিশন গঠনের পর ডিজিএফআই ও র্যাব সদর দপ্তরের বন্দিশালাগুলো থেকে আলামত ধ্বংসের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া গেছে। আলামত ধ্বংসে র্যাব সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশন ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছে।
নিখোঁজ: ২৫১ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
লাশ উদ্ধার: ৩৬ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে।
ডাম্পিং জোন: মুন্সীগঞ্জের নদী, বরিশালের বলেশ্বর নদ ও বরগুনার পাথরঘাটা এলাকাকে লাশের ডাম্পিং জোন হিসেবে ব্যবহার করা হতো। উদ্ধার হওয়া অনেক লাশের হাত-পা বাধা এবং মাথায় গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
কমিশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গুমের ঘটনায় র্যাব (২৫%) ও পুলিশ (২৩%) ছাড়াও ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআই সরাসরি জড়িত ছিল। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় মদদে পরিচালিত একটি পদ্ধতিগত অপরাধ ছিল বলে কমিশন মন্তব্য করেছে।
অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তে একটি জাতীয় ডিএনএ ডেটাবেস গঠনের সুপারিশ করেছে কমিশন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে বর্তমানে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কমিশন প্রধান জোর দিয়ে বলেন, “জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে বাংলাদেশে গুমের অবসান সম্ভব নয়।”
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...