ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ২১ বছরের প্রশাসনিক কেলেঙ্কারি! প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই বেতন-ভাতা তুলছেন ১৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। রাষ্ট্রের টাকায় গড়ে ওঠা এই 'অদৃশ্য রাজত্ব' নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০০৪ সালে। নেই স্থায়ী পদের সরকারি আদেশ, এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনও ঝুলে আছে বছরের পর বছর। তবুও গত ২১ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতি ভোগ করছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। কোনো স্পষ্ট নীতিগত অনুমোদন ছাড়াই নথির ফাঁকফোকর ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে এই সমান্তরাল প্রশাসনিক কাঠামো।
এই সংকটের সূত্রপাত ২০০১-২০০৪ মেয়াদে বাস্তবায়িত ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি (৪র্থ পর্যায়)’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। নিয়ম অনুযায়ী ২০০৪ সালের জুনে প্রকল্প শেষ হওয়ার পর জনবলের চাকরিও শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। উপপরিচালক থেকে শুরু করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী পর্যন্ত ২১টি ক্যাটাগরির এই বিশাল জনবল কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়াই দুই দশক ধরে রাজস্ব খাতের অর্থে বেতন তুলছেন।
১৯৯৭ সালের পর কোনো উন্নয়ন প্রকল্প সরাসরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের ওপর সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইফার এই কর্মীরা সেই বাধা ডিঙিয়েছেন প্রভাবশালী ‘লবিং’ এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে। হাইকোর্টের কোনো রায় বা বিশেষ নির্দেশনা ছাড়াই এই ১৩০ জন বছরের পর বছর সুবিধা ভোগ করছেন। এর ফলে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিয়মিত রাজস্বভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, যাদের পদোন্নতির পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ ও ২০২০ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল—অনুমোদনহীন পদ রাজস্ব খাতে নেওয়া যাবে না। তবুও বেতন, ভাতা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট থেমে থাকেনি। ইফা মহাপরিচালক আব্দুস ছালাম জানান, নিয়মিতকরণের প্রক্রিয়া চলমান। তবে নথিপত্র বলছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে এসে সচিব কমিটি এই পদগুলো ২০০৫ সাল থেকে ভূতাপেক্ষভাবে (পেছন থেকে) বৈধ করার সুপারিশ করেছে।
প্রকল্প থেকে আসা কর্মীরা যখন নিয়মিত ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতা তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছেন, তখন প্রশাসনিক ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, “রাজস্ব খাত থেকে বেতন দিলেও জনবল আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানান্তর না হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
সচিব কমিটির সাম্প্রতিক সুপারিশে হয়তো ফাইলের জট খুলবে, কিন্তু গত ২১ বছর ধরে আইনি ভিত্তিহীন একটি কাঠামোকে রাষ্ট্রীয় অর্থে টিকিয়ে রাখা সুশাসনের পথে একটি অস্বস্তিকর নজির হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের ভেতরে এই ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’ নিয়ে এখন প্রতিটি কর্মকর্তার প্রোফাইল যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...