মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মি ও সেনাবাহিনীর যুদ্ধ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ড্রোন হামলা, মাদক চোরাচালান ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাত বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। ড্রোন হামলা, রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান—সব মিলিয়ে কক্সবাজার-টেকনাফ সীমান্ত ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, রাখাইনের সংঘাত এখন আর কেবল গেরিলা যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গত ৬ জানুয়ারি সিত্তে টাউনশিপে আরাকান আর্মির ড্রোন হামলা প্রমাণ করে যে তারা এখন আধুনিক যুদ্ধ প্রযুক্তিতে সজ্জিত। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এই আধুনিকায়ন বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিনিয়ত গোলাগুলি ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। পাহাড়ি এলাকাগুলো এখন ডাকাত ও অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।
অপহরণ ও মাদক: গত কয়েক সপ্তাহে ক্যাম্পে অন্তত ৭টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে এবং ৬৬ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়েছে।
মাদক অর্থনীতি: আরাকান আর্মি ইয়াবা ও মাদক পাচারের মাধ্যমে তাদের ‘যুদ্ধ অর্থনীতি’ সচল রাখছে। বাংলাদেশ থেকে খাদ্য ও নিত্যপণ্য পাচারের বিনিময়ে দেশে ঢুকছে মাদক ও অস্ত্র।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, কয়েক’শ বাংলাদেশি যুবক বর্তমানে আরাকান আর্মির পক্ষে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা অস্ত্রসহ দেশে ফিরে আসছে, যা ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের সশস্ত্র সন্ত্রাসের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিবেদনে সরকারের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে: ১. সীমান্তে মাদক ও আর্থিক লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানো। ২. মমিয়ানমার থেকে চালিত ড্রোন মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করা। ৩. আরাকান আর্মির পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়া বাংলাদেশিদের তালিকা তৈরি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। ৪. দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা। ৫. রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সিসিটিভি ক্যামেরা ও কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করা।
প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুস সবুর মনে করেন, রাখাইন পরিস্থিতি এখন আর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। দ্রুত কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ও মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...