লোডশেডিং বা গরমে বিদ্যুৎ ছাড়াই ঘর ও শরীর ঠান্ডা রাখার দারুণ কিছু বিজ্ঞানসম্মত উপায়। ঘর ঠান্ডা রাখতে আজই জানুন ভিজা পর্দা ও চুনকামের কার্যকারিতা।
তীব্র দাবদাহ ও অব্যাহত লোডশেডিংয়ে ওষ্ঠাগত জনজীবন। এসি তো দূরের কথা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিলিং ফ্যান না ঘোরায় ঘরে টিকাই দায় হয়ে পড়ে। তবে বিদ্যুৎ না থাকলেও কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ঘর ও নিজেকে ঠান্ডা রাখা সম্ভব।
বিদ্যুৎ না থাকলে প্রাকৃতিক বাতাসই একমাত্র ভরসা।
ক্রস ভেন্টিলেশন: দিনের বেলায় যখন বাইরে প্রচণ্ড রোদ, তখন সব জানালা বন্ধ রাখুন, বিশেষ করে দক্ষিণ এবং পশ্চিমের জানালা। সন্ধ্যা হলে বা বাতাস ছাড়লে ঘরের বিপরীত দিকের জানালা ও দরজাগুলো খুলে দিন। এতে একদিক দিয়ে বাতাস ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বের হয়ে যাবে, যাকে ‘ক্রস ভেন্টিলেশন’ বলে। এটি ঘরের আটকে থাকা গরম বাতাস দ্রুত বের করে দেয়।
ভিজা পর্দার জাদু: জানালা খোলা থাকলে জানালার গ্রিলে বা পর্দার ওপর ঠান্ডা পানিতে ভিজানো একটি সুতি চাদর বা গামছা ঝুলিয়ে দিন। বাইরে থেকে আসা গরম বাতাস এই ভিজা কাপড়ের ভেতর দিয়ে আসার সময় বাষ্পীভবনের (Evaporation) কারণে ঠান্ডা হয়ে ঘরে ঢুকবে। এটি একটি প্রাকৃতিক এবং প্রাচীন এয়ারকুলার পদ্ধতি।
বিশেষ করে যারা টিনের ঘরে বা ছাদের ঠিক নিচের তলায় থাকেন, তাদের জন্য এটি অত্যাবশ্যক।
ছাদে সাদা রঙ (White Roof): ছাদের ওপর সাদা হিট-রিফ্লেক্টিভ পেইন্ট বা চুনকাম (Lime wash) করলে তা সূর্যের আলো এবং তাপের প্রায় ৮০-৮৫% প্রতিফলিত করে ফিরিয়ে দেয়। এতে ছাদের তাপমাত্রা এবং ফলশ্রুতিতে নিচের ঘরের তাপমাত্রা ৫-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং সাশ্রয়ী সমাধান।
মেঝে মোছা: দিনে কয়েকবার ঠান্ডা পানি দিয়ে ঘরের মেঝে মুছুন। মেঝে ভেজা থাকলে বাষ্পীভবনের কারণে ঘরের তাপমাত্রা কমে যায়। প্রাচীনকালে রাজপ্রাসাদেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হতো।
গাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, তারা প্রকৃতির নিজস্ব এয়ারকন্ডিশনার।
ট্রান্সপিরেশন (Transpiration): গাছ তাদের পাতা থেকে পানি বাষ্প আকারে বাতাসে ছাড়ে। এই প্রক্রিয়াটিকে ট্রান্সপিরেশন বলে, যা আশেপাশের বাতাসকে শীতল করে। ঘরের ভেতরে বা জানালার পাশে অ্যালোভেরা, স্নেক প্ল্যান্ট, মানিপ্ল্যান্ট, বা অ্যারিকা পাম জাতীয় গাছ রাখলে ঘর অনেকটা ঠান্ডা থাকে এবং বাতাসও পরিষ্কার হয়।
বিদ্যুৎ ছাড়াই শরীরকে দ্রুত ঠান্ডা করতে এটি অত্যন্ত কার্যকর।
পালস পয়েন্টে বরফ: শরীরের যেসব জায়গায় রক্তনালী ত্বকের খুব কাছে থাকে (যেমন- কবজি, ঘাড়, কনুইয়ের ভেতরটা, এবং গোড়ালি), সেগুলোকে ‘পালস পয়েন্ট’ বলে। লোডশেডিংয়ের সময় একটি সুতি কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে বা ঠান্ডা পানির বোতল এই পয়েন্টগুলোতে ১-২ মিনিট ধরুন। এতে ওই এলাকার রক্ত দ্রুত ঠান্ডা হয় এবং পুরো শরীরে একটি শীতল অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে।
গরমের সময় সিন্থেটিক কাপড় শরীরের শত্রু।
বিছানা: বিছানার চাদর এবং বালিশের কভার হিসেবে শুধুমাত্র ১০০% সুতি (Cotton) বা লিনেন (Linen) কাপড় ব্যবহার করুন। সুতি কাপড় তাপ ধরে রাখে না এবং শরীরের ঘাম শুষে নেয়, ফলে বাতাসে ঘাম শুকানোর সময় শরীর ঠান্ডা অনুভূত হয়। সিন্থেটিক বা সিল্কের চাদর তাপ আটকে রাখে।
পোশাক: ঢিলেঢালা, হালকা রঙের সুতি পোশাক পরুন। হালকা রঙ সূর্যের তাপ শোষণ করে না, বরং প্রতিফলিত করে।
পর্যাপ্ত পানি: গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে বড় উপায় হলো ঘামানো। আর ঘামানোর জন্য শরীরে পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। তৃষ্ণা না লাগলেও সারাদিন প্রচুর পানি, ডাবের পানি, বা স্যালাইন পান করুন।
ঠান্ডা ফল: তরমুজ, শসা, এবং বাঙ্গির মতো যেসব ফলে পানির পরিমাণ বেশি, সেগুলো বেশি করে খান। এগুলো শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বা গরম চা/কফি এড়িয়ে চলুন।
রান্নাঘরের তাপ: দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে রান্না করা এড়িয়ে চলুন। রান্নাঘরে এক্সস্ট ফ্যান (Exhaust fan) থাকলে তা অবশ্যই ব্যবহার করুন, যাতে রান্নার তাপ অন্য ঘরে ছড়িয়ে না পড়ে। রান্না শেষ হওয়ার সাথে সাথে চুলা পুরোপুরি বন্ধ করুন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...