নেপালে হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯। হাজারো মানুষ ও পর্যটক নিখোঁজ। জেনে নিন ২৬ আগস্টের হিমবাহ ধস ও পরবর্তী নতুন বন্যা সতর্কতার সম্পূর্ণ ইনসাইড রিপোর্ট।
নেপালের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক প্রলয়ঙ্কারী বন্যা ও কাদার স্রোতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮৯ জনে পৌঁছেছে। গত ২৬ আগস্ট (বুধবার) হিমবাহ ধসের পর শুরু হওয়া এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত মিলিয়ে এখনও ১,৪০০ থেকে ২,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমালয় অঞ্চলের একটি বিশালাকার হিমবাহ ভেঙে সোজা উপত্যকায় আছড়ে পড়ে। এতে রিখটার স্কেলে ৫.২ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়। বর্ষার কারণে নরম থাকা মাটি ও পাথর এই প্রলয়ঙ্কারী ধসের সঙ্গে মিশে মুহূর্তের মধ্যেই কাদার স্রোতে পরিণত হয় এবং ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি রাতারাতি প্রায় ৩০ ফুট বাড়িয়ে দেয়। কোনো পূর্ব সতর্কতা না থাকায় বাসিন্দারা সরে যাওয়ার সময় পাননি।
হতাহত ও পর্যটক সঙ্কট
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া, নুয়াকোট ও চিতওয়ান জেলা থেকে অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনেরও বেশি বিদেশি পর্যটক ও ট্রেকার রয়েছেন। ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩১ বিদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
লেন্দে ও ত্রিশূলী নদীর তোড়ে বহু গ্রাম, পাকা সড়ক, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চীন-নেপাল বাণিজ্যের প্রধান রুট 'জিরং পোর্ট'।
উদ্ধার অভিযান
উদ্ধারকাজে নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। তবে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তিব্বত সীমান্তে পাহাড় ধসে নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে একটি বিশালাকার কৃত্রিম হ্রদ (Barrier Lake) তৈরি হয়েছে। এটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে গিয়ে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভাটি অঞ্চলে পুনরায় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছে প্রশাসন।
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে *
অফিস (বাংলাদেশ) : ক-২৭১, ১০ম তলা, রংধনু কর্পোরেট অফিস, কুড়িল বিশ্বরোড, ঢাকা-১২২৯
ই-মেইল : info@newstime.net
Creating Document, Do not close this window...